ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর একটি শোধনাগারে আবারও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। সৌদি আরবের জিজান প্রদেশে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ এই তেল স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলাটি চালানো হয়। সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ও সামরিক সূত্রের বরাতে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এই হামলার খবর নিশ্চিত করেছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অন্যতম প্রধান সরবরাহকারী হিসেবে পরিচিত আরামকোর স্থাপনায় নতুন করে চালানো এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান নিরাপত্তাহীনতা ও উত্তেজনায় আরও একটি মাত্রা যোগ করেছে।
সামরিক সূত্রগুলোর দেওয়া প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, দুটি বিস্ফোরকবাহী ড্রোনের সাহায্যে শোধনাগারটিতে এই আকস্মিক আক্রমণ চালানো হয়। তবে হামলার ফলে ওই তেল শোধনাগারটির ঠিক কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বা কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে এখন পর্যন্ত বিস্তারিত কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি। এদিকে এই হামলার দায় আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করে নিয়েছে হুতি বিদ্রোহীরা। সংগঠনটির দাবি, ইয়েমেনের সাদা ও হাজ্জাহ প্রদেশের আকাশসীমা এবং সার্বভৌমত্ব সৌদি আরব প্রতিনিয়ত লঙ্ঘন করছে। মূলত এর প্রতিবাদ ও পাল্টা প্রতিরোধ ব্যবস্থা হিসেবেই তারা এই ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
সৌদি আরবের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক স্থাপনাগুলো, বিশেষ করে তেল শোধনাগারগুলো হুতিদের জন্য দীর্ঘদিনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্যবস্তু। ২০১৫ সালে ইয়েমেন সরকার ও হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যকার গৃহযুদ্ধে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট হস্তক্ষেপ করার পর থেকেই এই সংঘাত নতুন রূপ নেয়। এর আগেও আরামকোর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তেলক্ষেত্র ও রিফাইনারিতে হুতিরা একাধিকবার দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এসব হামলার কারণে অনেক সময়ই বৈশ্বিক তেল উৎপাদন সাময়িকভাবে ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামেও বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই হামলা প্রমাণ করে যে ইয়েমেন সংকট সমাধানের পথ এখনো বেশ জটিল এবং এই পরিস্থিতি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য অব্যাহত হুমকি হয়েই দাঁড়িয়ে আছে।











