ইন্দোনেশিয়ার রিয়াউ প্রদেশে কয়েক সপ্তাহ ধরে তাণ্ডব চালিয়ে অন্তত ১৭ জনকে আহত করা সেই বন্য বানরটিকে অবশেষে আটক করেছে কর্তৃপক্ষ। পুলিশ, সামরিক বাহিনী, অগ্নিনির্বাপক কর্মী ও বন্য প্রাণী কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত একটি যৌথ দল ফাঁদ পেতে ইন্দ্রাগিরি হিলির রিজেন্সির তেম্বিলাহান শহর থেকে বানরটিকে আটক করে। ইন্দোনেশিয়ার সংবাদমাধ্যম জেপিএনএন-এর এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
ইন্দ্রাগিরি হিলির পুলিশপ্রধান ডনি একো লিস্টিয়ান্তো জানান, রিয়াউ ন্যাচারাল রিসোর্সেস কনজারভেশন এজেন্সি বানরটির সম্ভাব্য লুকিয়ে থাকার জায়গাগুলোতে তিনটি ফাঁদ পেতেছিল। এর মধ্যে একটি ফাঁদে সেটি ধরা পড়ে। কর্তৃপক্ষের ধারণা, গত ২৫ জুলাই থেকে শুরু হওয়া এই ধারাবাহিক হামলাগুলোর জন্য আটক করা ম্যাকাক প্রজাতির এই বানরটিই দায়ী। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য জাকার্তা পোস্ট জানিয়েছে, তেম্বিলাহান এলাকায় একদল লম্বা লেজযুক্ত ম্যাকাক বানরের উপস্থিতির পর থেকে শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিসহ অন্তত ১৭ জন এদের হামলার শিকার হয়েছেন। একটি বড় আকারের পূর্ণবয়স্ক পুরুষ বানর একাই এই হামলাগুলো চালিয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছিল। রাস্তাঘাট, বাড়ির আঙিনা এবং এমনকি কিছু বসতবাড়ির ভেতরেও এসব হামলার ঘটনা ঘটে। বানরের হামলায় গুরুতর আহত বেশ কয়েকজনকে হাসপাতালে নিয়ে সেলাইও দিতে হয়েছে।
বানরের এই আকস্মিক ও ধারাবাহিক হামলার কারণে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে তেম্বিলাহান জেলার সব স্কুলকে তিন দিনের জন্য অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। সংবাদ সংস্থা আনাদোলুর সূত্রমতে, কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আটক করা প্রাণীটির আকার, আক্রমণাত্মক আচরণ এবং মুখে থাকা একটি বিশেষ দাগ ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দেওয়া বর্ণনার সঙ্গে পুরোপুরি মিলে যায়। এর মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, এটিই সেই হামলাকারী বানর।









