ভারতের পশ্চিমবঙ্গের এক তরুণীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে তাঁর ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগে জামালপুরের এক কলেজশিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। গতকাল বুধবার ওই শিক্ষার্থীকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া ওই শিক্ষার্থীর নাম মোস্তাফিজুর রহমান মেহেদী (১৯)। তিনি জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চর কালিকাপুর গ্রামের মৃত আব্দুল করিমের ছেলে এবং স্থানীয় এ কে এম মেমোরিয়াল কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী।
গোয়েন্দা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভারতের মুর্শিদাবাদ জেলার সূতী থানার ওই তরুণীর সঙ্গে মাস ছয়েক আগে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে মোস্তাফিজুর রহমানের। কিন্তু গত ৬ জুলাই থেকে হঠাৎ করেই মোস্তাফিজুরের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেন ওই তরুণী। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে তরুণীর কিছু আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হোয়াটসঅ্যাপ ও ইনস্টাগ্রামে পাঠাতে শুরু করেন মোস্তাফিজুর। একই সঙ্গে ইনস্টাগ্রামে এসব ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন এবং পরে একটি ভিডিও প্রকাশও করে দেন।
এই মর্মান্তিক ঘটনার পর ভুক্তভোগী ওই তরুণীর ভাই, যিনি পেশায় একজন আইনজীবী, পশ্চিমবঙ্গের স্থানীয় সূতী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পাশাপাশি সেই অভিযোগের কপি এবং ব্ল্যাকমেইলের যাবতীয় তথ্যপ্রমাণ জামালপুরের জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ সুপার ও দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বরাবর ই-মেইলে পাঠান। গত ১৭ জুলাই সেই ই-মেইল পাওয়ার পরই নিবিড় তদন্তে নামে জামালপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি চৌকস দল। অভিযোগের সত্যতা পেয়ে গত মঙ্গলবার রাতে দেওয়ানগঞ্জের কালিকাপুর এলাকা থেকে অভিযুক্ত মোস্তাফিজুরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
আরও
এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও বাদী উপপরিদর্শক (এসআই) সোহাগ রানা জানান, প্রাথমিক তদন্তে তরুণীর পরিবারের করা অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। এরপর ডিজিটাল আলামত সংগ্রহ ও পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই-বাছাই শেষে সাইবার নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে গতকাল বুধবার আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।












