পেরুর জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র নাজকা লাইনস এলাকায় একটি ছোট পর্যটকবাহী বিমান বিধ্বস্ত হয়ে এর সব আরোহী প্রাণ হারিয়েছেন। পেরুর রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, নিহত যাত্রীদের মধ্যে সাতজন ইতালীয়, দুজন জার্মান এবং দুজন স্প্যানিশ পর্যটক ছিলেন। তবে ঠিক কী কারণে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।
গত শনিবার স্থানীয় সময় দুপুর একটার দিকে পুয়েবলো ভিয়েহো এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। উড্ডয়নের আগে বিমানটি পেরুর পিসকো বিমানবন্দরে ছিল। বার্তা সংস্থা এএফপির বরাত দিয়ে পুলিশ কর্মকর্তা হোর্হে আন্দ্রাদে জানান, দুর্ঘটনাটি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে বিমানটির কেউই বেঁচে নেই। এখন পর্যন্ত ঘটনাস্থল থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এদিকে রয়টার্সের প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, বিমানের ধ্বংসস্তূপ থেকে ধোঁয়া উড়ছে এবং আগুন নেভাতে দমকলকর্মীরা সেখানে অবিরাম পানি ছিটাচ্ছেন।
বিধ্বস্ত হওয়া ছোট বিমানটি স্থানীয় এয়ারলাইন ‘অ্যারোডিয়ানা’র মালিকানাধীন বলে জানা গেছে। এক বিবৃতিতে নাসকা প্রাদেশিক পৌর কর্তৃপক্ষ এই দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানিয়েছে। স্প্যানিশ ভাষায় প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে অ্যারোডিয়ানা তাদের পরবর্তী ফ্লাইট সূচি পর্যালোচনা করবে।
আরও
দক্ষিণ পেরুর নাজকা লাইনস মূলত ইউনেসকো ঘোষিত একটি বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান এবং দেশটির অন্যতম প্রধান পর্যটন আকর্ষণ। মরুভূমির বিস্তীর্ণ বালুর ওপর আঁকা প্রাচীন প্রাণীর বিশাল আকৃতির নকশাগুলো দেখতেই সারা বিশ্ব থেকে আসা পর্যটকেরা ছোট বিমানে করে আকাশপথে ভ্রমণ করে থাকেন। তবে এই এলাকায় পর্যটকবাহী বিমান দুর্ঘটনার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগে ২০২২ সালে একই এলাকায় একটি ছোট বিমান বিধ্বস্ত হয়ে সাতজন নিহত হয়েছিলেন। তারও আগে ২০১০ সালে সেখানে আরেকটি বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছিলেন ছয় পর্যটক।









