জাতীয় সংসদে মালয়েশিয়ায় শ্রমিক ভিসায় ৮৫ হাজার টাকায় লোক পাঠানোর পক্ষে কথা বলায় জনশক্তি রপ্তানিকারক সিন্ডিকেট হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে জানিয়েছেন, জনগণের পক্ষে কথা বলতে গিয়ে তিনি কোনো সিন্ডিকেটের হুমকির তোয়াক্কা করবেন না। বুধবার জাতীয় সংসদের এলডি হলে সাংবাদিকদের সঙ্গে বাজেট-পরবর্তী এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ অভিযোগ করেন।
জামায়াত আমির জানান, সংসদে ৮৫ হাজার টাকা খরচে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর দাবি তোলার পর থেকেই একটি সংঘবদ্ধ চক্র তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছে। তিনি প্রশ্ন রাখেন, তিনি কোনো নির্দিষ্ট দালাল বা রিক্রুটিং এজেন্সির নাম উল্লেখ না করার পরও কেন কিছু মানুষের এত গাত্রদাহ হচ্ছে। ডা. শফিকুরের মতে, এই সিন্ডিকেট কেবল মালয়েশিয়ায় নয়, বিশ্বজুড়েই গরিব মানুষদের নিঃস্ব করছে এবং বিদেশে গিয়ে এসব মানুষ প্রতারিত হয়ে জেলেও খাটছেন। প্রবাসীদের এই বঞ্চনার বিরুদ্ধে সংসদের ভেতরে ও বাইরে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কঠোর ঘোষণা দেন তিনি।
মতবিনিময় সভায় তিনি বাজেট ও অর্থনীতি সংক্রান্ত আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেন। প্রান্তিক মুদি দোকানিদের ওপর প্রস্তাবিত অগ্রিম কর প্রত্যাহারের বিষয়ে নিজেদের শক্ত অবস্থানের কথা জানান তিনি, যা পরবর্তীতে বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি, দেশের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর অর্থায়ন ও বাস্তবায়নের ধীরগতি নিয়ে সমালোচনা করে তিনি অর্থবছর পরিবর্তনের প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, জুলাই-জুনের পরিবর্তে জানুয়ারি-ডিসেম্বর অর্থবছর করা হলে বর্ষা মৌসুমে তড়িঘড়ি করে কাজ করার প্রবণতা কমবে এবং জনগণের অর্থের অপচয় রোধ করা সম্ভব হবে।
আরও
দেশীয় ক্ষুদ্র শিল্পের সুরক্ষায় সাইকেলের যন্ত্রাংশ আমদানিতে অতিরিক্ত কর আরোপের প্রস্তাব প্রত্যাহারের দাবিও জানান ডা. শফিকুর। এছাড়া, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের বিনা শুল্কের গাড়ি ও সরকারি প্লট না নেওয়ার বিষয়ে নিজেদের অবস্থান পুনরায় স্পষ্ট করেন তিনি। তবে সরকারি দায়িত্ব পালনের সুবিধার্থে সংসদ চলাকালীন এমপিদের জন্য নির্ধারিত সরকারি ফ্ল্যাট ব্যবহারের বিষয়টিকে তিনি সম্পূর্ণ বৈধ ও যৌক্তিক বলে উল্লেখ করেন। মতবিনিময় সভায় জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ দলের অন্যান্য সংসদ সদস্য ও শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।










