মালয়েশিয়ার সেলাঙ্গরে ইমিগ্রেশন বিভাগ (জেআইএম) এবং অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় মন্ত্রণালয়ের (কেপিডিএন) যৌথ বিশেষ অভিযানে বাংলাদেশিসহ ৩০ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সেলাঙ্গরের সেরি কেম্বাঙ্গানের ওয়ান সাউথ প্লাজা এলাকায় ‘অপস লিটল মিডল ইস্ট’ নামের এই অভিযান পরিচালিত হয়। মূলত বিভিন্ন অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে তাঁদের আটক করা হয়েছে।
জেআইএম এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টায় শুরু হওয়া এই অভিযানে ইমিগ্রেশন বিভাগের স্পেশাল অ্যাকশন ব্রাঞ্চ ও এনফোর্সমেন্ট ডিভিশনের ৫৩ জন এবং কেপিডিএনের পাঁচজন কর্মকর্তা অংশ নেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এবং এক সপ্তাহের নিবিড় গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে ওই এলাকায় এই আকস্মিক অভিযান চালানো হয়। অভিযান চলাকালে ওই এলাকার রেস্তোরাঁ, খাদ্যের কিয়স্ক, বিক্রয়কেন্দ্রসহ অন্তত ১৫টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বৈধ অনুমতি ছাড়াই বিদেশি কর্মী নিয়োগ ও তাঁদের আশ্রয় দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ ছিল।
তদন্তের অংশ হিসেবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মোট ৬৪ জনের কাগজপত্র যাচাই–বাছাই করেন। এর মধ্যে বৈধ কাগজপত্র না থাকায় ৩০ বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের বয়স ২৬ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। তাঁদের মধ্যে বাংলাদেশ ছাড়াও ইয়েমেন, সোমালিয়া, আফগানিস্তান, ঘানা ও পাকিস্তানের নাগরিক রয়েছেন। জেআইএম জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন আইন এবং বিধিমালার বিভিন্ন ধারায় অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে ভিসার নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থান, বৈধ ভ্রমণ নথি না থাকা এবং পাস বা ভিসার অপব্যবহারের মতো অভিযোগগুলো উল্লেখযোগ্য।
আরও
এ ছাড়া একই অভিযানে তদন্তের স্বার্থে এক মালয়েশীয় নাগরিককে সমন জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি পরিদর্শনের সময় একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিককে মূল্য নিয়ন্ত্রণ ও মুনাফাবিরোধী আইনে ৩০০ রিঙ্গিত জরিমানা করে কেপিডিএন। ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, আটক সব বিদেশি নাগরিককে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ইমিগ্রেশন ডিপোতে পাঠানো হয়েছে। অবৈধভাবে বসবাসকারী এবং পাস সুবিধার অপব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে এমন ধারাবাহিক অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে সতর্ক করেছে জেআইএম। একই সঙ্গে অবৈধ অভিবাসীদের আশ্রয় বা কর্মসংস্থান দিলে নিয়োগকর্তাদের বিরুদ্ধেও কোনো ধরনের ছাড় ছাড়াই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ার করা হয়েছে।
আরও দেখুন










