মাঝ আকাশে চলন্ত উড়োজাহাজের ভেতরেই যাত্রীরা জামাতে নামাজ আদায় করছেন- দৃশ্যটি বহু মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। এই অনন্য ব্যবস্থাটি রয়েছে সৌদি আরবের জাতীয় উড়োজাহাজ সংস্থা সৌদিয়া এয়ারলাইনস-এর বিমানে। মূলত দূরপাল্লার ফ্লাইটে যাত্রীরা যেন ওয়াক্ত অনুযায়ী নামাজ আদায় করতে পারেন, সেই উদ্দেশ্যেই এই বিশেষ জায়গা তৈরি করা হয়েছে। নামাজের স্থানটিতে কিবলা নির্ধারণের জন্য আছে অত্যাধুনিক স্বয়ংক্রিয় মনিটর, যা বিমানের দিক পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে কিবলার সঠিক দিক নির্দেশ করতে সক্ষম।
এভিয়েশন ব্যবসায় বিমানের ভেতরের প্রতিটি ইঞ্চি জায়গা অত্যন্ত মূল্যবান বলে বিবেচনা করা হয়। একটি সাধারণ যাত্রীবাহী বিমানে এমন প্রার্থনাকক্ষ তৈরি করতে বিমানের আকার অনুযায়ী ৯ থেকে ১২টি পর্যন্ত আসন সরিয়ে ফেলতে হয়। তাই আসন কমানোর ফলে সৌদিয়া এয়ারলাইনস প্রতি বছর বিপুল অঙ্কের রাজস্ব থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে।
শুধু রিয়াদ থেকে নিউইয়র্ক রুটের বছরে প্রায় তিনশ ফ্লাইটের হিসাব করলে দেখা যায়, এই আসনগুলো না থাকার কারণে সংস্থাটি বছরে প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ সৌদি রিয়াল বা ৪৩ লাখ মার্কিন ডলার আয় হাতছাড়া করছে। ১৯৯৫ সাল থেকে শুরু হওয়া এই ব্যবস্থার কারণে গত কয়েক দশকে প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক আর্থিক ছাড়ের পরিমাণ তাই রীতিমতো বিস্ময়কর।
আরও
বাণিজ্যিক লাভের চেয়ে যাত্রীদের ধর্মীয় অনুভূতিকে এমন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার দৃষ্টান্ত আধুনিক এভিয়েশন শিল্পে সত্যিই বিরল। বিশেষ করে দূর দেশে পাড়ি জমানো প্রবাসী ও সাধারণ যাত্রীদের কাছে বিমানের ভেতরের এই দৃশ্যটি এক অন্য রকম আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছে। কোটি টাকার রাজস্বের মায়া ত্যাগ করে আকাশে বিশ্বের সবচেয়ে দামি এই প্রেয়ার রুম তাই অনন্য নজির হিসেবে প্রশংসিত হচ্ছে।










