শরীয়তপুর পৌর এলাকায় পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে (৩৫) মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। বেধড়ক মারধরের পর ওই নারীর চুল কেটে, মুখে আলকাতরা মেখে এবং গলায় জুতার মালা পরিয়ে প্রকাশ্যে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। গতকাল শনিবার (১৩ জুন) অমানবিক এই নির্যাতনের ২ মিনিট ৪৮ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শরীয়তপুর পৌরসভার উত্তর পালং শাবনূর মার্কেট এলাকার বাসিন্দা দুই সন্তানের জননী ওই নারীর স্বামী দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে থাকেন। সম্প্রতি তাঁর সঙ্গে প্রতিবেশী দেলোয়ার দপ্তরি ও তাঁর পরিবারের আর্থিক লেনদেন নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়। শনিবার সকালে আপস-মীমাংসার কথা বলে দেলোয়ারের পরিবারের সদস্যরা তাঁকে নিজ বাড়িতে ডেকে নেন। একপর্যায়ে বাকবিতণ্ডা শুরু হলে দেলোয়ারের ছেলে পলক, মেয়ে মৌসুমী, স্ত্রী আমেনা ও আত্মীয় রহিমা মিলে তাঁকে বেধড়ক মারধর করেন। নির্যাতন শেষে মাদক বিক্রির ভুয়া অপবাদ দিয়ে তাঁকে জনসমক্ষে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে লাঞ্ছিত করা হয়।
ভুক্তভোগী ওই নারী তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা মাদক বিক্রির অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, দেলোয়ার দপ্তরি তাঁর কাছ থেকে টাকা ধার নিয়েছিলেন এবং এর প্রমাণস্বরূপ একটি স্ট্যাম্পও দিয়েছিলেন। এখন সেই স্ট্যাম্প জোরপূর্বক ফেরত নিতেই পরিকল্পিতভাবে তাঁকে হকিস্টিক দিয়ে পিটিয়ে এই বর্বরোচিত নির্যাতন চালানো হয়েছে। বাঁচার জন্য তিনি পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নিলেও সেখান থেকে টেনেহিঁচড়ে বের করে তাঁকে মারধর করা হয়। তিনি এই নির্মম ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন।
আরও
অন্যদিকে, অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ওই নারী মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা মামলা দিয়ে তাঁদের হয়রানি করে আসছেন। দেলোয়ার দপ্তরির মেয়ে মৌসুমী আক্তার অভিযোগ করেন, ওই নারী তাঁর বাবার সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়ানোর চেষ্টা করেছেন। গতকাল সকালে আপসের জন্য ডাকা হলে তিনি গালাগাল শুরু করেন, যার ফলে নারীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। তবে মিথ্যা মামলা দেওয়া ও মাদক বিক্রির আক্রোশ থেকেই তাঁকে ওই অবস্থায় বেঁধে রাখা হয়েছিল বলে পরোক্ষভাবে স্বীকার করেন মৌসুমী।
সার্বিক বিষয়ে পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম জানান, জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই নারীকে উদ্ধার করে। বর্তমানে তিনি শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ভুক্তভোগী নারী কিছুটা সুস্থ হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।








