ওমান উপকূলের কাছাকাছি এলাকায় একটি ভারতীয় পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ আকস্মিক হামলার শিকার হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে ঠিক কোন সশস্ত্র গোষ্ঠী বা কারা এই হামলা চালিয়েছে, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত সুস্পষ্ট কোনো তথ্য জানা যায়নি। হামলার খবর পাওয়ার পরপরই ওমান কর্তৃপক্ষ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং সফল উদ্ধার অভিযান চালিয়ে জাহাজে থাকা সব নাবিককে নিরাপদে সরিয়ে নিতে সক্ষম হয়। মধ্যপ্রাচ্যের চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মাঝে আন্তর্জাতিক জলসীমায় এই হামলার ঘটনা নতুন করে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
এই হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সংবাদমাধ্যমে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তিনি বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর এ ধরনের আক্রমণকে সম্পূর্ণ ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। একই সঙ্গে চরম সংকটের মুহূর্তে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে ভারতীয় নাবিকদের জীবন বাঁচানোর জন্য ওমান সরকার ও উদ্ধারকারী কর্তৃপক্ষের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে ভারত সরকার।
আরও
হামলার পর ভারত সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক নৌপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর কড়া জোর দেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সতর্ক করে স্পষ্ট ভাষায় বলা হয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে কোনো ধরনের হামলা চালানো, নিরীহ নাবিকদের জীবন অকারণে ঝুঁকিতে ফেলা কিংবা সমুদ্রপথে অবাধ চলাচল ও বাণিজ্যে বাধা সৃষ্টির মতো বেআইনি কার্যকলাপ থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের স্বার্থে সমুদ্রপথের সার্বিক নিরাপত্তা রক্ষায় সবাইকে বৈশ্বিক মেরিটাইম আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে দিল্লি।
উল্লেখ্য, পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালিতে চলমান অচলাবস্থার মাঝেই এই অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার ঘটনাটি ঘটল। বিশ্ব বাণিজ্যের অত্যন্ত স্পর্শকাতর এই রুটে বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে। তবে এমন উত্তেজনাকর পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা সংকটের মাঝেও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতগামী একাধিক এলপিজি ট্যাংকার ঝুঁকিপূর্ণ এই হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে বলে জানা গেছে। (সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া)\










