জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব-নিকাশের ওপর ভিত্তি করে ২০২৬ সালের পবিত্র ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করেছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতার। দেশটির হিসাব অনুযায়ী, ১৪৪৭ হিজরি সালের জিলহজ মাস শুরু হবে আগামী সোমবার (১৮ মে) এবং সে অনুযায়ী পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে বুধবার (২৭ মে)। মঙ্গলবার (১২ মে) কাতার নিউজ এজেন্সির আনুষ্ঠানিক বিবৃতির বরাত দিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক সংবাদমাধ্যম খালিজ টাইমস এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা এবং ঈদুল আজহার তারিখ নির্ধারণের বিষয়ে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দিয়েছেন কাতার ক্যালেন্ডার হাউসের নির্বাহী পরিচালক ড. ফয়সাল আল-আনসারি। তিনি জানান, জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব অনুযায়ী দোহা স্থানীয় সময় শনিবার রাত ১১টা ২ মিনিটে জিলহজ মাসের নতুন চাঁদের জন্ম হবে। সময়ের পার্থক্যের কারণে সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্থানীয় সময় অনুযায়ী এই নতুন চাঁদের জন্ম হবে রোববার রাত ১২টা ২ মিনিটে। মূলত এই সুনির্দিষ্ট হিসাবের ওপর ভিত্তি করেই পবিত্র হজের মাসের সূচনার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
নতুন চাঁদের জন্ম ও দৃশ্যমান হওয়ার বিষয়ে ড. আল-আনসারি আরও স্পষ্ট করে জানান, শনিবার সূর্যাস্তের সময় পর্যন্ত নতুন চাঁদের জন্ম হবে না। ফলে ওইদিন সন্ধ্যায় কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য আরব ও ইসলামি দেশের আকাশে খালি চোখে বা যন্ত্রপাতির সাহায্যে নতুন চাঁদ দেখার কোনো সম্ভাবনা নেই। বিজ্ঞানভিত্তিক এই সুস্পষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই কাতার কর্তৃপক্ষ আগামী ১৮ মে থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জিলহজ মাস গণনার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে, যার ১০ম দিনে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে।
আরও
এই ঘোষণার পাশাপাশি ইসলামিক ও গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের মূল পার্থক্যের বিষয়টিও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে কাতার ক্যালেন্ডার হাউস। তারা জানিয়েছে, ইসলামিক মাসগুলো সম্পূর্ণ চন্দ্রনির্ভর; অর্থাৎ পৃথিবীকে কেন্দ্র করে চাঁদের আবর্তনের ওপর ভিত্তি করেই আরবি বা ইসলামি মাসের শুরু ও শেষ নির্ধারণ করা হয়। অন্যদিকে, প্রচলিত গ্রেগরিয়ান বা ইংরেজি মাসগুলো সৌরনির্ভর, যা সূর্যকে কেন্দ্র করে পৃথিবীর বার্ষিক আবর্তনের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়ে থাকে। বৈজ্ঞানিক এই পদ্ধতি অনুসরণ করেই কাতার প্রতি বছর গুরুত্বপূর্ণ ইসলামিক দিনগুলোর সম্ভাব্য তারিখ আগাম নির্ধারণ করে থাকে।










