লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে দখলদার ইসরায়েলের এক ভয়াবহ ড্রোন হামলায় দুই বাংলাদেশি এবং এক সিরীয় নাগরিকসহ মোট তিনজন নিহত হয়েছেন। সোমবার (১১ মে) লেবানিজ সংবাদমাধ্যম ‘লরিয়েন্ট টুডে’ তাদের এক প্রতিবেদনে এই প্রাণহানির খবর নিশ্চিত করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, নাবাতিহ জেলার জেবদিন এলাকার একটি আবাসিক বাড়িতে এই আকস্মিক ড্রোন হামলাটি চালানো হয়। আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি থাকা সত্ত্বেও ইসরায়েলের এমন প্রাণঘাতী হামলা ওই অঞ্চলে নতুন করে চরম উত্তেজনা ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

লরিয়েন্ট টুডে তাদের প্রতিবেদনে নিহতদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করলেও এখন পর্যন্ত হতভাগ্য ওই দুই বাংলাদেশির সুনির্দিষ্ট নাম বা বিস্তারিত পরিচয় প্রকাশ করতে পারেনি। তবে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, নিহত ব্যক্তিরা ওই এলাকায় সাধারণ শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং নিজেদের জীবিকা নির্বাহ করতেন। ধারণা করা হচ্ছে, রোববার কোনো এক সময়ে ইসরায়েলি বাহিনী জেবদিনের ওই বাড়িটিতে এই ড্রোন হামলাটি চালিয়েছে, যার ফলে নিরীহ এই প্রবাসীদের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে।
আরও
উল্লেখ্য, গত ১৬ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু সেই আন্তর্জাতিক চুক্তি অমান্য করে ইসরায়েলি সেনারা দক্ষিণ লেবাননে ব্যাপক মাত্রায় হামলা চালিয়ে সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি ধ্বংস করা অব্যাহত রেখেছে। বেসামরিক বাসস্থানের পাশাপাশি তারা হিজবুল্লাহর যোদ্ধাদেরও সুনির্দিষ্টভাবে টার্গেট করে এসব অভিযান পরিচালনা করছে, যা যুদ্ধবিরতির শর্তের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।


ইসরায়েলি বাহিনীর এই লাগাতার চুক্তিবিরোধী আগ্রাসনের কড়া জবাব দিচ্ছে লেবাননের শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহও। সাধারণ নাগরিক ও নিজেদের যোদ্ধাদের ওপর হামলার প্রতিশোধ নিতে তারা পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলের হামলার জবাবে হিজবুল্লাহ সোমবারও ইসরায়েলি সেনাদের অবস্থান লক্ষ্য করে পাল্টা ড্রোন হামলা চালিয়েছে। সব মিলিয়ে আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরও লেবানন সীমান্তে সংঘাত ও প্রাণহানির এক চরম অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিরাজ করছে।










