পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে প্রবাসে পাড়ি জমানো কুমিল্লার তিতাস উপজেলার রবিউল হাসান রবিন (৩৮) নামের এক যুবকের স্বপ্ন এখন কফিনে বন্দি। মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে কর্মস্থল থেকে নিখোঁজের এক দিন পর নির্মাণাধীন ভবনের একটি ময়লার ড্রাম্পার থেকে তাঁর নিথর দেহ উদ্ধার করেছে স্থানীয় পুলিশ। নিহত রবিন তিতাস উপজেলার বলরামপুর ইউনিয়নের কালাইগোবিন্দপুর গ্রামের মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে। জীবিকার তাগিদে দেশ ছাড়লেও এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে ওই প্রবাসীর পরিবারে এখন চলছে শোকের মাতম এবং পুরো এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিন গত সোমবার (৪ মে) সকালে কুয়ালালামপুরের বুকিত জলিল এলাকায় একটি চীনা নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে গিয়ে হঠাৎ নিখোঁজ হন। এরপর সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরদিন মঙ্গলবার বিকেলে ওই নির্মাণাধীন ভবনের ভেতরে থাকা একটি ময়লার ড্রাম্পার থেকে পুলিশ তাঁর লাশ উদ্ধার করে। নিহতের বড় ভাই খোকন জানান, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে রবিন মালয়েশিয়ায় গিয়েছিলেন। প্রথমে শাহআলম এলাকায় কাজ করলেও মাত্র ১৫ দিন আগে তিনি বুকিত জলিলে এই নতুন কর্মস্থলে যোগ দেন। বর্তমানে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁর মরদেহ মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে।
রবিনের মর্মান্তিক এই মৃত্যুকে নিছক দুর্ঘটনা বা স্বাভাবিক মৃত্যু মানতে নারাজ তাঁর পরিবার; বরং এটি একটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে তাঁরা জোরালো অভিযোগ তুলেছেন। নিহতের শ্বশুর মো. রশিদ মিয়া জানান, মাত্র ১৫ দিন আগে রবিন শ্রমিকদের বেতনের হিসাব রাখার দায়িত্ব পেয়েছিলেন। এই নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই কয়েকজন সহকর্মীর সঙ্গে তাঁর বিরোধ তৈরি হয়। সেই বিরোধ ও প্রতিহিংসার জের ধরেই তাঁকে হত্যা করে ময়লার ড্রাম্পারে ফেলে রাখা হয়েছে বলে তাঁদের ধারণা। বড় ভাই খোকন আরও জানান, ঘটনার দিন জালাল ও সেন্টু নামের দুই ব্যক্তি ফোনে রবিনের নিখোঁজ হওয়ার খবর দেন। কিন্তু তাঁদের কথায় ব্যাপক অসংগতি পাওয়ায় হত্যার এই সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে।
আরও
পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে এখন পুরোপুরি দিশেহারা হয়ে পড়েছে নিহত রবিনের পরিবার। তাঁর ১৫ বছরের ছেলে মিহাদ, ৫ বছরের মেয়ে রাইসা এবং মাত্র ২ বছরের ছোট ছেলে রোহানের ভবিষ্যৎ এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে। স্বামীর এমন অকাল ও মর্মান্তিক মৃত্যুর শোক সইতে না পেরে স্ত্রী ফেরদৌসী আক্তার বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “তিন সন্তানকে নিয়ে আমি এখন কোথায় যাব? আমার স্বামীকে যারা হত্যা করেছে, আমি তাদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।” প্রিয়জনের নিথর দেহের অপেক্ষায় প্রহর গোনা পরিবারটি দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে এবং এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।










