থাইল্যান্ডে এক ব্যক্তির শেষ ইচ্ছা পূরণে তাঁর কফিনের সামনে নৃত্যশিল্পীদের নাচ পরিবেশনের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের এক প্রতিবেদনের বরাতে জানা যায়, দীর্ঘদিনের অসুস্থতায় মারা যাওয়া এক ব্যক্তির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় এমন অদ্ভুত ও ব্যতিক্রমী আয়োজন করা হয়, যা শেষ ইচ্ছার প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং প্রচলিত সামাজিক রীতিনীতির মধ্যে এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয় গণমাধ্যম ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, থাইল্যান্ডের নাখন সি থাম্মারাত প্রদেশে গত ২০ এপ্রিল রাতে ৫৯ বছর বয়সী উইনিচ নামের ওই ব্যক্তির শেষকৃত্যের প্রাক্কালে এই ব্যতিক্রমী আয়োজন করা হয়। দীর্ঘদিনের অসুস্থতায় মারা যাওয়া ওই ব্যক্তি জীবদ্দশায় নিজেই পরিবারের কাছে তাঁর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় এমন আয়োজনের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। তাঁর সেই শেষ ইচ্ছা পূরণ করতেই পরিবারের সদস্যরা তিনজন নৃত্যশিল্পীকে নিয়ে আসেন। ভিডিওতে দেখা যায়, ওই নৃত্যশিল্পীরা কফিনের সামনে এবং উপস্থিত অতিথিদের সামনে নাচ পরিবেশন করছেন। পরদিন ২১ এপ্রিল ওয়াত থেপফানোম চুয়েত মন্দিরে তাঁর দাহ সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল।
এদিকে এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই নেটিজেনদের মধ্যে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়। এক পক্ষের মতে, মৃত ব্যক্তির শেষ ইচ্ছাকে সম্মান জানানোই পরিবারের প্রধান দায়িত্ব এবং এই ধরনের আয়োজন শোকাহত পরিবেশে কিছুটা হলেও স্বস্তি ও ভিন্নতা নিয়ে আসে। অন্যদিকে সমালোচকদের জোরালো দাবি, অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার মতো এমন একটি গম্ভীর ও সংবেদনশীল অনুষ্ঠানে এ ধরনের নাচ পরিবেশন একেবারেই অনুচিত এবং এটি সামাজিকভাবে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।
আরও
নেটিজেনদের অনেকেই অবশ্য উল্লেখ করেছেন যে থাইল্যান্ডের সংস্কৃতিতে বয়স্কদের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় ঐতিহ্যবাহী লোকনৃত্য বা বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করার চল রয়েছে। তবে এই আয়োজনের ধরন এবং অনুষ্ঠানে শিশুদের উপস্থিতি নিয়ে অনেকেই গুরুতর নৈতিক প্রশ্ন তুলেছেন। সব মিলিয়ে, মৃত ব্যক্তির একান্ত ব্যক্তিগত শেষ ইচ্ছা পূরণ করা নাকি চিরাচরিত সামাজিক মূল্যবোধ ও ভাবগাম্ভীর্য বজায় রাখা—মূলত এই দ্বন্দ্বে দেশটির সাধারণ জনমত এখন দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে।











