মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী বলেছেন, মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক দিন দিন আরও উষ্ণ ও সুদৃঢ় হচ্ছে। পারস্পরিক আস্থা, সহযোগিতা ও বন্ধুত্বপূর্ণ মনোভাবের ভিত্তিতে দুই দেশের এই সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাচ্ছে। গত সোমবার মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এক ইফতার অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। ওই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, সরকারি কর্মকর্তা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
হাইকমিশনার জানান, সম্প্রতি বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর প্রতি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম যে অভিনন্দন জানিয়েছেন, তা দুই দেশের পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও কূটনৈতিক সম্পর্কের একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার সম্পর্ক শুধু আনুষ্ঠানিক কূটনীতির গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ নেই; বরং বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শ্রমবাজার, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়সহ নানা ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা ক্রমাগত সম্প্রসারিত হচ্ছে। বিশেষ করে মালয়েশিয়ায় কর্মরত বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি দুই দেশের সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করছেন।
ইফতার মাহফিলে কূটনীতিকদের সঙ্গে পরিচয়পর্বে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়। এ সময় তিনি মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত অবৈধ বাংলাদেশি কর্মীদের বৈধতার বিষয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। বিষয়টি মানবিক ও বাস্তব দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনার অনুরোধ জানিয়ে হাইকমিশনার বলেন, মালয়েশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশিরা দেশটির অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তাঁদের সুরক্ষা, অধিকার ও বৈধতা নিশ্চিত করা হলে তা দুই দেশের বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও সুসংহত করবে। পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে এ বিষয়ে দ্রুত ইতিবাচক অগ্রগতি অর্জিত হবে বলেও তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আরও
রমজানের এই বিশেষ আয়োজনে অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে মতবিনিময় হয়, যেখানে সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের চিত্র স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। সব মিলিয়ে, ইফতার অনুষ্ঠানে কূটনৈতিক সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক সহযোগিতার যে ইতিবাচক বার্তা উঠে এসেছে, তা বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্কের ভবিষ্যৎ পথচলায় নতুন আশার সঞ্চার করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।











