ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য কঠোর ভাষায় অভিযুক্ত করেছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মোহাম্মদ আসিফ। তিনি নেতানিয়াহুকে ‘মানবতার নিকৃষ্টতম অপরাধী’ আখ্যা দিয়ে তাকে আটক করে আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালতে হাজির করার আহ্বান জানান। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র কিংবা তুরস্ক চাইলে নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করে আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় আনতে পারে।
সম্প্রতি পাকিস্তানের বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল জিও নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে খাজা আসিফ বলেন, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে শক্তিধর দেশগুলো যেভাবে বিভিন্ন রাষ্ট্রপ্রধানকে আটক করেছে, একইভাবে নেতানিয়াহুকেও আইনের মুখোমুখি করা সম্ভব। তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর ঘটনায় যেমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তেমন ব্যবস্থা নেওয়া হলে তিনি তা সমর্থন করবেন। একই সঙ্গে তুরস্কের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘নেতানিয়াহুকে আটক করার ক্ষেত্রে তুরস্ক এগিয়ে এলে আমরা সেটিকে স্বাগত জানাব।’
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালত বা আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালত–এর জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আদালত যখন ইতোমধ্যে পদক্ষেপ নিয়েছে, তখন সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রগুলোর উচিত সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সহযোগিতা করা। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের নভেম্বরে আইসিসি নেতানিয়াহু এবং ইসরায়েলের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।
আরও
ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের তীব্র সমালোচনা করে খাজা আসিফ বলেন, ইতিহাসে এ ধরনের ব্যাপক মানবতাবিরোধী অপরাধ বিরল। তার দাবি, শুধু অভিযুক্ত ব্যক্তিরাই নয়, যারা এই কর্মকাণ্ডে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সমর্থন জোগাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধেও আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
এদিকে গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে তুরস্ক ও ইসরায়েলের সম্পর্ক ইতোমধ্যে চরম অবনতির দিকে গেছে। তুরস্ক ইসরায়েলের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থগিত করেছে এবং আকাশসীমা ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এই প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মন্তব্য আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।











