উপসাগরীয় অঞ্চলে আঞ্চলিক প্রভাব পুনর্গঠনে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইসরায়েলের মধ্যে একটি গোপন সমঝোতা হয়েছে—এমন দাবি তুলেছেন সৌদি রাজপরিবারের পরিচয়–গোপন রাখা এক জ্যেষ্ঠ সদস্য। মিডল ইস্ট মনিটরকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আরব বিশ্বের ঐক্যের আড়ালে ক্ষমতার পালাবদল ও তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে, যার লক্ষ্য সৌদি আরবকে মধ্যস্থতাকারী শক্তি হিসেবে পাশ কাটানো।
ওই হুইসেলব্লোয়ার জানান, আব্রাহাম অ্যাকর্ডে সইয়ের পর থেকে ইসরায়েল কৌশলগতভাবে আমিরাতকে আঞ্চলিক নেতৃত্বে এগিয়ে দিতে চেষ্টা করছে। তার দাবি, কুয়েতও ধীরে ধীরে সৌদি আরবের প্রভাববলয় থেকে সরে আমিরাতের দিকে ঝুঁকছে। বিশেষত কুয়েতি আমির শেখ মিশালের শাসনামলে রাজনৈতিক স্বাধীনতা হ্রাস, সাংবিধানিক গণতন্ত্র স্থগিত এবং ভিন্নমতাবলম্বীদের প্রতি কঠোর অবস্থান এই পরিবর্তনকে আরও ত্বরান্বিত করেছে।
সাক্ষাৎকারে আরও অভিযোগ করা হয়, কুয়েতি ভিন্নমতাবলম্বীদের বিদেশে টার্গেট করতে কানাডা ও যুক্তরাজ্যে বিশেষ টিম পাঠানো হয়েছে এবং এতে আমিরাতের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে। কানাডায় আশ্রয় নেওয়া নাগরিক সামিহ মরিস বোলস দাবি করেছেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলায় তাকে অতীতে একাধিকবার আটক করা হয়েছিল এবং বর্তমানে তিনি অপহরণ বা হত্যার আশঙ্কায় রয়েছেন। জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদনে কুয়েতের বিচারব্যবস্থার সংস্কার ও বোলসকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সুপারিশ থাকলেও সরকার এখনো পদক্ষেপ নেয়নি।
আরও
এদিকে কুয়েত–আমিরাত সম্পর্ক সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আরও জোরদার হয়েছে। দুই দেশ নিরাপত্তা, জ্বালানি, অর্থনীতি ও অবকাঠামোসহ একাধিক খাতে সমঝোতা স্মারক সই করেছে। তবে সমালোচকদের মতে, এই ঘনিষ্ঠতা কুয়েতের রাজনৈতিক স্বাতন্ত্র্য ও অভ্যন্তরীণ স্থিতির ওপর চাপ তৈরি করছে। বিশেষ করে কুয়েতি ইসলামি চিন্তাবিদ তারেক আল–সুয়াইদানের নাগরিকত্ব বাতিলে আমিরাতের চাপ ছিল বলে গুঞ্জন রয়েছে।
সাবেক আমির শেখ সাদকে ২০০৬ সালে ক্ষমতাচ্যুত করার ঘটনাতেও নতুন অভিযোগ যুক্ত হয়েছে। সাক্ষাৎকারে বলা হয়, অসুস্থতার কারণে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের সরকারি ব্যাখ্যার আড়ালে বাস্তবে তাকে জোরপূর্বক গৃহবন্দি করা হয়েছিল। উপসাগরীয় রাজনীতিতে ক্রমবর্ধমান অস্থিরতা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রেক্ষাপটে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ ধরনের অভিযোগ আঞ্চলিক সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলছে।












