ওমানের আকাশে আগামী ১৩ ও ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫ এক বিরল জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক দৃশ্যের অবতারণা হতে যাচ্ছে। বার্ষিক জেমিনিড উল্কাবৃষ্টি এ দুই রাতে সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছাবে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, চাঁদের শেষ চতুর্থাংশ অবস্থান এবং রাতের প্রথমভাগে চাঁদোদয় না হওয়ায় আকাশ তুলনামূলক অন্ধকার থাকবে, যা উল্কাবৃষ্টি পর্যবেক্ষণের জন্য অত্যন্ত উপযোগী পরিবেশ তৈরি করবে।

ওমানি সোসাইটি ফর অ্যাস্ট্রোনমি অ্যান্ড স্পেস-এর মেটিওরোলজি ও অ্যাস্ট্রো-ফটোগ্রাফি কমিটির প্রধান কাসিম বিন হামাদ আল বুসাইদি জানান, এ বছর জেমিনিড উল্কাবৃষ্টি সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম উজ্জ্বল প্রদর্শনী হতে পারে। আদর্শ পরিস্থিতিতে প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১২০টি উল্কা দেখা যাওয়ার সুযোগ থাকবে। ম্যাগনেসিয়াম ও সোডিয়াম দহনের ফলে উল্কাগুলো সাধারণত হলুদ-সবুজ আভা ছড়িয়ে বিশেষ সৌন্দর্যের সৃষ্টি করে।
আরও


গবেষকরা আরও জানিয়েছেন, জেমিনিড উল্কাবৃষ্টির উৎস অ্যাস্টেরয়েড ৩২০০ ফেইথন। জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ এবং জাপানের DESTINY মিশনের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সূর্যের নিকটবর্তী হলে ফেইথন বিপুল পরিমাণ সোডিয়াম গ্যাস নিঃসরণ করে এবং সেই ধুলিকণাই উল্কাবৃষ্টির জন্ম দেয়। তুলনামূলকভাবে ধীরগতির কারণে—প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার—এই উল্কাগুলো দীর্ঘ সময় ধরে আকাশে দৃশ্যমান থাকে এবং টানা দুই সেকেন্ড পর্যন্ত আলো ছড়িয়ে যেতে পারে।
রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ‘জেমিনি’ নক্ষত্রমণ্ডলের উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ায় উল্কাপাতের ঘনত্ব ও দৃশ্যমানতা বেড়ে যাবে। বিশেষ করে রাত ১টা থেকে ভোর ৪টার মধ্যে দিগন্তজুড়ে দীর্ঘপথে ছুটে যাওয়া ‘আর্থ-গ্রেজার’ উল্কা দেখা যেতে পারে, যা জেমিনিড উল্কাবৃষ্টির অন্যতম আকর্ষণ। একই সময়ে রেগুলাস, সিরিয়াস, অ্যালডেবারান, ক্যাপেলা, প্লেইডিস ক্লাস্টারসহ উজ্জ্বল নক্ষত্র ও ভেনাস, বৃহস্পতি ও শনির মতো গ্রহও দৃষ্টিগোচর হবে।
পর্যবেক্ষকদের উদ্দেশে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, শহরের আলোকদূষণ থেকে দূরে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করলে উল্কাবৃষ্টির মনোরম দৃশ্য উপভোগ করা যাবে। কোনো বিশেষ যন্ত্রপাতির প্রয়োজন নেই; তবে অ্যাস্ট্রোফটোগ্রাফিতে আগ্রহীদের জন্য এটি দুর্লভ এক সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।











