একসময় মক্কা ও মদিনার পবিত্র ভূমিতে প্রবেশ করলেই এক অন্যরকম আধ্যাত্মিক প্রশান্তি অনুভব করতেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। কিন্তু সম্প্রতি এই চিরচেনা দৃশ্যে বেশ পরিবর্তন চোখে পড়ছে। বিশেষ করে মসজিদে নববী ও মসজিদুল হারামের বাইরের চত্বরগুলোতে পশ্চিমা ও আধুনিক পোশাকে দর্শনার্থীদের অবাধ ঘোরাফেরা অনেককেই অবাক করেছে। অনেকেই পবিত্র এই ভূমিগুলোর এমন দ্রুত পরিবর্তন মেনে নিতে পারছেন না।
প্রায়ই দেখা যায়, মদিনার পবিত্র আঙিনায় বিদেশি পর্যটক ও দর্শনার্থীরা আধুনিক ও পশ্চিমা ধাঁচের পোশাক পরে চলাফেরা করছেন, যা আগে কখনো খুব একটা দেখা যেত না। এসব ছবি ঘিরে নেট দুনিয়ায় চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই মন্তব্য করেছেন যে, এই ধরনের দৃশ্য অত্যন্ত দুঃখজনক। কেউ কেউ আবার নিজেদের সাম্প্রতিক সফরের তিক্ত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জানিয়েছেন, পবিত্র স্থানগুলোতে এখন আর আগের মতো সেই রুহানিয়াত বা আধ্যাত্মিক পরিবেশ নেই। ক্ষুব্ধ নেটিজেনদের অনেকেই মক্কা-মদিনার এই দ্রুত পরিবর্তনকে ‘কেয়ামতের আলামত’ হিসেবেও আখ্যায়িত করেছেন।
মূলত সৌদি আরবের বর্তমান যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ‘ভিশন ২০৩০’-এর অংশ হিসেবে দেশটিতে ব্যাপক সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংস্কার চলছে। তেলনির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে এসে পর্যটন খাতকে চাঙ্গা করতে সৌদি সরকার বিদেশি পর্যটকদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার পাশাপাশি পোশাকের বিধিনিষেধেও বেশ শিথিলতা এনেছে। আগে বিদেশি নারীদের জন্য বোরকা বা আবায়া পরা বাধ্যতামূলক থাকলেও, এখন শালীন পোশাক পরার শর্তে সেই কড়াকড়ি অনেকটাই তুলে নেওয়া হয়েছে। এর ফলেই সৌদি আরবের অন্যান্য শহরের মতো পবিত্র মক্কা ও মদিনাতেও বিদেশি পর্যটকদের পশ্চিমা পোশাকে দেখা যাচ্ছে, যা সেখানকার আবহমানকালের ধর্মীয় গাম্ভীর্যের সাথে বেশ কিছুটা সাংঘর্ষিক।











