আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে দলের হাল ধরছেন জ্যেষ্ঠ প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম। ভারতের সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াল’–এর সঙ্গে এক বিস্তৃত সাক্ষাৎকারে তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেন। একই সঙ্গে তার ছোট বোন শেখ রেহানার প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে যুক্ত না থাকার বিষয়টিও তিনি স্পষ্ট করেন। সাক্ষাৎকারে আগামী ডিসেম্বরে, অর্থাৎ বিজয়ের মাসে দেশে ফেরার সিদ্ধান্তে অনড় থাকার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। দেশে ফিরলে বিমানবন্দরেই তাকে হত্যার শঙ্কা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, নিজের জন্য অন্য কাউকে বিপদে ফেলতে চান না। তবে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে তিনি প্রত্যাবর্তনের সব প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সরকারের তরফ থেকে ট্রাভেল ডকুমেন্ট না দেওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশে ফেরার অনুমতি না পেলে পরিস্থিতি অনুযায়ী বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
গত ৫ আগস্টের দেশত্যাগের প্রেক্ষাপট বর্ণনা করতে গিয়ে শেখ হাসিনা দাবি করেন, সেদিন দেশ ছাড়ার কোনো ইচ্ছে তার ছিল না। তিনি ভেবেছিলেন তাকে হয়তো তার গ্রামের বাড়ি টুঙ্গিপাড়ায় নেওয়া হচ্ছে; কিন্তু আকাশপথে ওঠার পর তিনি জানতে পারেন তাকে ভারতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ক্ষমতার জন্য মানুষের প্রাণহানি চাননি বলেই তিনি সরে দাঁড়িয়েছেন বলে জানান। দেশের বর্তমান পরিস্থিতির কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে দেশে আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি ঘটেছে। পরিকল্পিতভাবে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ৬ লক্ষাধিক মামলা দেওয়ার পাশাপাশি দেশের চিহ্নিত জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। দেশের এমন ধ্বংসাত্মক পরিণতি দেখে তার ‘হৃদয়ে রক্তক্ষরণ’ হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও জঙ্গিবাদের উত্থান কেবল দেশের ভেতরেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং এর চরম খেসারত ভারতকেও দিতে হবে বলে সতর্ক করেছেন শেখ হাসিনা। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার স্বার্থে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর জোর দেন তিনি। পাশাপাশি বাংলাদেশের নির্বাচন ও তারেক রহমানের বিষয়ে ভারতের বর্তমান অবস্থান নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। নিজের জীবনের চরম ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও মানুষের দুর্দশা লাঘবে তাদের পাশে দাঁড়ানোর দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, এই দেশ তার বাবার স্বাধীন করা এবং এই দেশের মাটিতে ফেরার পূর্ণ অধিকার তার রয়েছে।









