জাতিকে ভুল পথে পরিচালিত করার চেষ্টা করা হলে এর চরম পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে বর্তমান সরকারকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। তিনি সরকারকে সতর্ক করে বলেছেন, প্রয়োজনে হাত-পায়ে ধরে সঠিক পথে আসার অনুরোধ করা হবে, কিন্তু তাতেও কাজ না হলে ঘাড় ধরতে একচুলও হাত কাঁপবে না। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর শাপলা চত্বরে ১১ দলীয় জোটের উদ্যোগে আয়োজিত ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ কর্মসূচির উদ্বোধনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। যাত্রার শুরুতেই সরকার জাতির সঙ্গে চরম বিশ্বাসঘাতকতা করেছে বলেও এ সময় তিনি তীব্র সমালোচনা করেন।
সমাবেশে পবিত্র কোরআনের সুরা ইবরাহিমের ৪৫ নম্বর আয়াতের উদ্ধৃতি দিয়ে মাওলানা মামুনুল হক বলেন, অতীতে যারা জুলুম করেছিল, তাদের পরিণতি থেকে বর্তমান সরকারের শিক্ষা নেওয়া উচিত। লংমার্চের সূচনা পর্ব থেকে সরকারপ্রধানকে কোরআনের ভাষায় সতর্ক করে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সময় থাকতে সাবধান না হলে পূর্বসূরিদের মতো নির্ধারিত ভয়াবহ পরিণাম থেকে কেউই রক্ষা পাবে না। সরকারের যেকোনো স্বৈরাচারী আচরণের বিরুদ্ধে রাজপথে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলারও ইঙ্গিত দেন এই নেতা।
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার দ্রুত বিচার, বিদ্যুৎ-গ্যাস-তেল ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধের ছয় দফা দাবিতে মূলত এই লংমার্চ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে ১১ দলীয় জোট। সমাবেশ থেকে জোটের ভবিষ্যৎ কর্মসূচির রূপরেখা তুলে ধরে জানানো হয়, ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের পর আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর রংপুর, ৩১ অক্টোবর খুলনা-কুষ্টিয়া এবং ২১ নভেম্বর ট্রেনযোগে সিলেট অভিমুখে পর্যায়ক্রমে লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর সব কর্মসূচি শেষে আগামী ডিসেম্বর বা জানুয়ারিতে ঢাকায় একটি বিশাল মহাসমাবেশের মধ্য দিয়ে আন্দোলনের চূড়ান্ত রূপ দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়।
আরও










