চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের জন্য বিমান ভাড়ায় ৫০ শতাংশ ছাড় দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে এই পরিবারের সদস্যরা বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের সব হোটেল ও মোটেলে ৩৬ শতাংশ ছাড়ের সুবিধা পাবেন। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন আয়োজিত জুলাই যোদ্ধাদের সম্মাননা প্রদান ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম এ ঘোষণা দেন।
শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের প্রতি রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ ও আহত তরুণেরা জাতির ইতিহাসের অনন্য এক অধ্যায়ের সাহসী অংশীদার। কেবল আনুষ্ঠানিকভাবে স্মরণ না করে তাঁদের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে হবে। ‘৩৬ জুলাই’কে স্মরণীয় করে রাখতেই পর্যটন করপোরেশনের হোটেলগুলোতে এই ৩৬ শতাংশ ছাড়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। দেশ-বিদেশে ভ্রমণের ক্ষেত্রে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের টিকিটেও তাঁদের জন্য ৫০ শতাংশ মূল্যছাড়ের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি এই যোদ্ধাদের কর্মসংস্থানেরও সুব্যবস্থা করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
দেশের পর্যটন খাতকে অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও সাংস্কৃতিক সম্প্রীতি বিকাশের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে পর্যটন খাতকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, জনবান্ধব ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করে গড়ে তুলতে হবে। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আখতার এবং বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান বক্তব্য দেন।
আরও
আবেগঘন এই আলোচনা সভায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দুঃসহ স্মৃতিচারণ করেন শহীদ ওয়াসিম আকরামের বাবা শফিউল আলম, শহীদ আফিকুল ইসলাম সাদের বাবা মো. শফিকুল ইসলাম, শহীদ জোবায়ের আহমেদের স্ত্রী মোছা. মারজিনা আক্তার এবং জুলাই যোদ্ধা সানজিদা আহমেদ তন্বী। অনুষ্ঠানের শেষ ভাগে প্রধান ও বিশেষ অতিথিরা বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের পক্ষ থেকে শহীদ পরিবারের সদস্য এবং আহত যোদ্ধাদের হাতে প্রাইজবন্ড ও বিশেষ সম্মাননা স্মারক তুলে দেন।









