সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্স বা ডেক থেকে টাকা গণনার সময় প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে হাতে লেখা একটি চিঠি পাওয়া গেছে। শনিবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে দানবাক্স খুলে টাকা গণনার সময় নগদ অর্থের পাশাপাশি ওই চিঠিটি উদ্ধার করা হয়। চিঠিতে দেশে ঘটে যাওয়া ধর্ষণ, হত্যা, শিশু নির্যাতন ও মাদকের বিস্তারের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার তীব্র আহ্বান জানানো হয়েছে।
চিঠির শুরুতে লেখক উল্লেখ করেছেন, এই চিঠি প্রধানমন্ত্রীর কাছে আদৌ পৌঁছাবে কি না, তা তাঁর জানা নেই। এরপর দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি লিখেছেন, সবাই চায় বাংলাদেশ সুন্দরভাবে এগিয়ে যাক। কিন্তু ধর্ষণ, হত্যাসহ অন্যান্য গুরুতর অপরাধের দৃশ্যমান বিচার না হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে বিচারব্যবস্থার প্রতি ক্রমশ আস্থা কমে যাচ্ছে। চিঠিতে রামিসা, আছিয়া ও হাদীর মতো শিশুদের ওপর সংঘটিত অপরাধের প্রসঙ্গ বিশেষভাবে তুলে ধরে দীর্ঘসূত্রতা এড়িয়ে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
মাদকের ভয়াবহ বিস্তার নিয়েও চিঠিতে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। লেখকের দাবি, মাদকের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের প্রভাব অনেক বেশি, যার কারণে তারা সহজেই থানা ম্যানেজ করে পার পেয়ে যায়। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে চিঠিতে উল্লেখ করেন, গ্রামের প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষই মাদকাসক্ত। চিঠির শেষে ‘বাংলাদেশকে ভালোবাসি’ লিখে মোহাম্মদ জুবায়ের আহমদ নামে এক ব্যক্তি স্বাক্ষর করেছেন। তবে এ বিষয়ে মাজারের আয়-ব্যয় ব্যবস্থাপনা তদারকির জন্য গঠিত কমিটির কোনো সদস্য তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
আরও
মাজারের সার্বিক আয়-ব্যয় ব্যবস্থাপনা তদারকিতে গঠিত কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং সদস্যসচিব হিসেবে আছেন সিলেটের জেলা প্রশাসক। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রশাসক রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মশিউর রহমান, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের শামীম, সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার, মাজারের মোতোয়াল্লি পরিবারের দুজন সদস্য এবং মাজার সংলগ্ন মাদ্রাসা ও মসজিদের দুজন প্রতিনিধি।










