দেশের অর্থনীতি, বিদেশি বিনিয়োগ এবং পর্যটন খাতে ব্যাপক গতি আনার লক্ষ্যে প্রায় দুই দশক পর অভিবাসন নীতিমালায় বড় ধরনের সংস্কার আনতে যাচ্ছে সরকার। একটি আধুনিক, যুগোপযোগী ও সেবামুখী অভিবাসন কাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নতুন ‘ভিসা নীতিমালা-২০২৬’-এর একটি পূর্ণাঙ্গ খসড়া প্রণয়ন করেছে। প্রস্তাবিত এই নীতিমালায় একদিকে যেমন বিদেশি বিনিয়োগকারী ও পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় সুযোগ-সুবিধা রাখা হয়েছে, তেমনি অবৈধ অভিবাসন রোধে জরিমানার বিধানসহ বেশ কিছু কঠোর পদক্ষেপও গ্রহণ করা হয়েছে। এই নতুন নীতিমালা দেশের বিনিয়োগ, দক্ষ জনশক্তি ও আন্তর্জাতিক সংযোগ বাড়াতে ব্যাপক সহায়ক হবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
খসড়া নীতিমালায় বড় অঙ্কের বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে বিশেষ সুবিধার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কোনো বিদেশি বিনিয়োগকারী বাংলাদেশের ভারী শিল্প বা দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায় অন্তত ৫০ লাখ মার্কিন ডলার বা সমপরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করলে তিনি এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা আজীবনের জন্য ‘নো ভিসা রিকোয়ার্ড’ (এনভিআর) সুবিধা পাবেন। এছাড়া, অন্যান্য বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রাথমিকভাবে এক বছরের মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা চালু থাকবে, যা তাঁদের ধারাবাহিক বিনিয়োগের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত বাড়ানো যাবে। এর পাশাপাশি, বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নাগরিক এবং তাঁদের তৃতীয় প্রজন্ম পর্যন্ত মাত্র ৮০ ডলার আবেদন ফি দিয়ে এই এনভিআর সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন বলে খসড়ায় উল্লেখ করা হয়েছে।
ভিসা প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও আধুনিক করতে নতুন খসড়ায় ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে ই-ভিসা (ইলেকট্রনিক ভিসা) চালুর প্রস্তাব রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, জাপান, চীন ও ইউরোপীয় দেশগুলোর নাগরিকদের জন্য বিদ্যমান ৩০ দিনের ‘অন অ্যারাইভাল’ বা আগমনী ভিসা সুবিধা বহাল রাখা হয়েছে। দেশের চিকিৎসা খাতকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরতে ও বিকশিত করতে প্রথমবারের মতো ‘মেডিকেল ট্যুরিজম’ বা চিকিৎসা পর্যটন ক্যাটাগরি যুক্ত করা হয়েছে। এই ক্যাটাগরির আওতায় বিদেশি রোগীরা তিন মাসের মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা পাবেন এবং তাঁদের পরিচর্যার জন্য সর্বোচ্চ দুজন সহকারীও এই ভিসার আওতায় আসার সুযোগ পাবেন।
আরও
সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি অবৈধ অবস্থান রোধেও নীতিমালায় কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থার প্রস্তাব করা হয়েছে। ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অবস্থান করলে প্রথম ১৫ দিন এক হাজার টাকা, পরবর্তী ৯০ দিন দুই হাজার টাকা এবং এরপর থেকে প্রতিদিন তিন হাজার টাকা হারে ধাপে ধাপে জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। এমনকি স্পন্সর বা নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানকেও এই অর্থদণ্ডের আওতায় আনা হবে। তবে শিক্ষার্থীদের জন্য মেয়াদোত্তীর্ণের পর ৯০ দিন পর্যন্ত জরিমানা ছাড়াই অবস্থানের বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দীর্ঘমেয়াদি ভিসা নিয়ে আসা ভারত ও পাকিস্তানের নাগরিকদের জন্য ১৪ দিনের মধ্যে স্থানীয় ইমিগ্রেশনে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসন নিশ্চিত করতে প্রণীত এই খসড়াটি বর্তমানে ২১টি মন্ত্রণালয় ও সংস্থার মতামতের জন্য পাঠানো হয়েছে, যা পাওয়ার পর চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে।





![]jkhgg](https://probashtime.net/wp-content/uploads/2026/05/jkhgg.webp)




