বাংলাদেশের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও জোরদার করতে দেশেই সামরিক ড্রোন উৎপাদন কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে চীনের সঙ্গে সরকার-থেকে-সরকার (জি-টু-জি) ভিত্তিতে একটি চুক্তি সইয়ের প্রস্তুতি চলছে। অর্থ মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে ‘আনম্যানড এরিয়াল ভেহিকল (ইউএভি) উৎপাদন কারখানা স্থাপন ও প্রযুক্তি হস্তান্তর (টিওটি)’ শীর্ষক প্রকল্প প্রস্তাবের অনুমোদন দিয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত নথি অনুযায়ী, প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৬০৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে ড্রোন উৎপাদন প্ল্যান্ট স্থাপন, প্রযুক্তি আমদানি ও সরঞ্জাম সংগ্রহে প্রায় ৫৭০ কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রায় পরিশোধ করা হবে, যা চার অর্থবছরে এলসির মাধ্যমে পরিশোধের পরিকল্পনা রয়েছে। অবশিষ্ট অর্থ এলসি চার্জ, ভ্যাট ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খাতে দেশীয় মুদ্রায় ব্যয় হবে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী দেশেই সামরিক ড্রোন উৎপাদন, রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার সক্ষমতা অর্জন করবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা করছেন। এতে দীর্ঘমেয়াদে বিদেশি সরঞ্জামের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং প্রতিরক্ষা খাতে প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়বে। প্রস্তাব অনুযায়ী, চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিরক্ষা ইলেকট্রনিক্স প্রতিষ্ঠান China Electronics Technology Group Corporation (সিইটিসি) ইন্টারন্যাশনাল সরবরাহকৃত প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।
আরও
এ বিষয়ে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ গণমাধ্যমে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, ড্রোন কারখানা বা সামরিক সরঞ্জাম আমদানির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে তিনি আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিতে চান না। একইভাবে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, বিমান বাহিনী থেকে আনুষ্ঠানিক তথ্য এলে তা গণমাধ্যমকে জানানো হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অর্থ মন্ত্রণালয় কয়েকটি শর্তে প্রকল্পটির অনুমোদন দিয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—চলতি অর্থবছরে প্রকল্প ব্যয় বিদ্যমান বাজেট বরাদ্দের মধ্য থেকেই নির্বাহ করতে হবে এবং ভবিষ্যৎ অর্থবছরগুলোতেও বিমান বাহিনীর নির্ধারিত বাজেট সীমার মধ্যেই অর্থ ব্যয় করতে হবে। সব ব্যয় প্রচলিত আর্থিক বিধি-বিধান অনুসরণ করে এলসির মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে এবং অনুমোদিত প্রকল্প ছাড়া অন্য কোনো খাতে এই অর্থ ব্যবহার করা যাবে না।











