ঢাকার মোবাইল মার্কেটগুলোতে সম্প্রতি রিফার্বিশড বা ব্যবহারিক অবস্থার আইফোনকে নতুনের মতো ভাঁজে বিক্রি করে ক্রেতাদের কাছে প্রতারণার উদ্রেক বেড়েছে। সারাদিন সার্ভিস সেন্টারে ভিড় করছেন এমন ক্রেতারা—চার্জ ধরছে না, ব্যাটারি হঠাৎ দ্রুত ড্রেইন, ডিসপ্লে বার্নিং বা হঠাৎ করে অ্যাক্টিভেশন/কান্ট্রোল লক-এর মতো জটিল সমস্যার অভিযোগ নিয়ে টেকনিশিয়ানদের কাছে ছুটে আসছেন।
টেকনিশিয়ানরা বলছেন, এসব ফোনের বড় অংশ দুবাই থেকে আসে; যেখানে কর্পোরেট বা প্রজেক্ট ব্যবহৃত যন্ত্রসমূহ সময়ের পরে বাতিল হয়ে নিলাম বা পাইকারি চ্যানেলে পড়ে। পরে কিছু ব্যবসায়ী সেগুলো চীন বা হংকং-এ রিফার্বিশড করিয়ে নতুন কভার, ব্যাটারি বা স্ক্রিন বসিয়ে ‘ফ্যাক্টরি আনলক’ বা ‘অরিজিনাল’ ট্যাগ দিয়ে বাজারে পাঠায়। ঢাকায় এসব ফোন often বসুন্ধরা সিটি, মোবাইল মার্কেট, চাঁনখারপুল ইত্যাদি এলাকায় নতুন বক্সে প্যাক করে নতুন হিসেবে বিক্রি হয়।
সার্ভিস সেন্টারগুলো জানিয়েছে, বর্তমানে তাদের কাস্টমারদের প্রায় ৭০ শতাংশই রিফার্বিশড/ইউজড আইফোন নিয়ে আসেন; এদের প্রায় অর্ধেক ফনি-সার্ভিসযোগ্য নয়—কারণ অ্যাপল সিস্টেমে বসানো ‘অ্যাক্টিভেশন বা কন্ট্রোল-লক’ কেটে ফেলাটা বৈধভাবে সম্ভব নয়। অনেকে ব্যাটারি হেলথ বা অন্যান্য ডেটা দেখেই নিশ্চিন্ত হয়ে নিচ্ছেন, অথচ ওই তথ্য সফটওয়্যারের মাধ্যমে নকল করা থাকে; কিছুদিন পরেই ফোনের প্রকৃত ত্রুটি প্রকাশ পায়।
আরও
বিটিআরসি ও কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, প্রতি মাসে শত শত রিফার্বিশড আইফোন অবৈধভাবে দেশে ঢুকছে—প্রধানত কুরিয়ার বা লাগেজ পার্টি হিসেবে—যেগুলো সরকারি নিবন্ধন বা শুল্ক ছাড়াই বাজারে বিক্রি হচ্ছে। সরকারের রাজস্ব ক্ষতি ও স্থানীয় শিল্পের ওপর নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে উদ্বেগ রয়েছে। এই সংকট মোকাবিলায় বিটিআরসি ১৬ ডিসেম্বর (মহান বিজয় দিবসে) দেশব্যাপী ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (NEIR) পুনরায় চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে; এর মাধ্যমে প্রতিটি হ্যান্ডসেটের IMEI-নম্বার রিয়েল-টাইম যাচাই করা হবে এবং অবৈধ বা ক্লোন ডিভাইস নেটওয়ার্কে কাজ করতে না পারবে।
তথ্যচালিত বিশেষজ্ঞরা ক্রেতাদের সতর্ক করেছেন: ফোন কেনার আগে 반드시 IMEI যাচাই, অ্যাক্টিভেশন স্ট্যাটাস ও ওয়ারেন্টি চেক করুন এবং সম্ভব হলে অফিসিয়াল রিটেইলার বা অনুমোদিত দোকান থেকেই কেনাকাটা করুন। এছাড়া দাম যদি অস্বাভাবিকভাবে কম মনে হয়, তাহলে সেটি সন্দেহজনক বলে ধরে নেওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।











