প্রধান উপদেষ্টার উপ প্রেস সচিব মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ মজুমদার বলেছেন, গণভবন কখনও সরকারিভাবে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ছিল না। শুক্রবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, গণভবন মূলত রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন হিসেবে ব্যবহৃত হত, পরে এটিকে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন হিসেবে পরিচিত করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এই ভবনে বসেই অতীতের নানা গুম, খুন ও জুলাই হত্যাযজ্ঞের পরিকল্পনা চালানো হয়েছিল।

আজাদ মজুমদার জানান, অনেকের মধ্যে ধারণা আছে গণভবনকে জাদুঘরে পরিণত করা যাবে না। তবে ইতিহাস দেখালে বোঝা যায়, বিশ্বের নানা স্থানে গুরুত্বপূর্ণ ও ট্র্যাজিক স্থানগুলো পরবর্তীতে জাদুঘর হিসেবে সংরক্ষিত হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, পোল্যান্ডের নাৎসি কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প, হিরোশিমার পারমাণবিক হামলার স্থান ইত্যাদি এখন জাদুঘর ও স্মৃতিস্হল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
আরও
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ভিয়েতনাম যুদ্ধের কু চি টানেল নেটওয়ার্ক এখন একটি যুদ্ধ জাদুঘর হিসেবে পরিচিত। যুক্তরাষ্ট্রের গেটিসবার্গ ব্যাটেলফিল্ড এবং রোবেন আইল্যান্ডের কারাগারও বর্তমানে জাদুঘর এবং স্মৃতি সংরক্ষণের কেন্দ্র। প্যারিসের বাস্তিল দুর্গ, ভারতের জালিয়ানওয়ালাবাগ ও আমস্টারডামের অ্যানা ফ্রাঙ্কের লুকানোর স্থানও একই ধরনের সংরক্ষিত স্থান হিসেবে আছে।


আজাদ মজুমদার আরও বলেন, গণভবনকে জাদুঘর হিসেবে রূপান্তর করার সিদ্ধান্ত শুধু তাদেরই সমস্যা, যারা জুলাই হত্যাযজ্ঞকে ছোটখাটো ঘটনা হিসেবে দেখে বা আশা করে হত্যাকারীরা ফিরবে। তিনি এ ধরনের প্রতিক্রিয়া যারা দেখাচ্ছেন, তাদের ইতিহাসের গুরুত্ব বোঝার আহ্বান জানান।
সংক্ষেপে, গণভবনকে জাদুঘরে রূপান্তর করা শুধু ইতিহাস সংরক্ষণ এবং শিক্ষার জন্য, যা বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলোর অনুরূপ উদাহরণ দ্বারা প্রমাণিত।












