সৌদি আরবের আসির প্রদেশের আভা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ব্যালিস্টিক মিসাইল হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথি বিদ্রোহীরা। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এই হামলার দায় স্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, ব্যালিস্টিক মিসাইলের আঘাতটি ছিল অত্যন্ত নিখুঁত ও সরাসরি। এর ফলে বিমানবন্দরটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং সেখানে উড়োজাহাজ চলাচল চরমভাবে বিঘ্নিত হয়। আলজাজিরার এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সৌদি আরবের বিভিন্ন বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলা চালাচ্ছে হুথিরা। আভা বিমানবন্দরে হামলার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক উড়োজাহাজ সংস্থাগুলোর প্রতি আবারও কড়া সতর্কতা উচ্চারণ করেছেন ইয়াহিয়া সারি। তিনি বলেন, সৌদি আকাশসীমায় বিমান চালালে কী পরিণতি ভোগ করতে হবে, সেই সতর্কতা আমরা পুনর্ব্যক্ত করছি। তাদের আকাশসীমা এখন আমাদের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। তবে হুথিদের সর্বশেষ এই হামলার বিষয়ে সৌদি আরব এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। এর আগে জাজান ও নাজরান বিমানবন্দরেও হুথিরা হামলা চালিয়েছিল, যাতে ওই দুই বিমানবন্দরের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছিল রিয়াদ।
অন্যদিকে, ইয়েমেনের রণাঙ্গনেও দৃশ্যপট দ্রুত পাল্টাচ্ছে। বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত সমুদ্রপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালির আশপাশ থেকে হুথি যোদ্ধাদের হটিয়ে দেওয়ার দাবি করেছে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনের সরকারি সেনাবাহিনী। একই সঙ্গে লোহিত সাগরের তীরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মোখার নিয়ন্ত্রণও তাদের হাতে এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে। জানা যায়, গত সোমবার (৫ অক্টোবর) লোহিত সাগরের উপকূল ধরে ইয়েমেনি সরকারি বাহিনী দ্রুত অগ্রসর হয়ে বাব আল-মান্দেব প্রণালির আশপাশের বেশ কয়েকটি অবস্থান থেকে হুথিদের বিতাড়িত করে এবং মোখার দিকে এগিয়ে যায়।
আরও
সোমবার বিকেলে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রেসিডেন্সিয়াল পরিষদ সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, মোখা এখন সরকারি বাহিনীর পূর্ণ দখলে। সরকারি আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, সৌদি বিমানবাহিনীর ব্যাপক সহায়তায় সৈন্যরা শহরটির উপকণ্ঠে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে এবং হুথি যোদ্ধারা পিছু হটে পাহাড়ি এলাকার দিকে চলে যাচ্ছে। তবে ইয়েমেনি সরকারের এই দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে, হুথি বিদ্রোহীরা সরকারি বাহিনীর মোখা দখলের এই দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।








