ইয়েমেনের সশস্ত্র হুথি গোষ্ঠী সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থিত রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছে। গোষ্ঠীটির দাবি, ইয়েমেনের রাজধানী সানাসহ বিভিন্ন স্থানে সৌদি জোটের ধারাবাহিক বিমান হামলার জবাবে শনিবার (৩ অক্টোবর) এই অভিযান চালানো হয়েছে। তবে ইয়েমেন সরকারকে সমর্থনকারী সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট হুথিদের এই দাবিকে পুরোপুরি ‘বিভ্রান্তিকর’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
তুরস্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আনাদোলুর প্রতিবেদন অনুযায়ী, হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এক টেলিভিশন বিবৃতিতে এই হামলার দায় স্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, আরামকোর স্থাপনায় চালানো এই অভিযান সফলভাবে লক্ষ্য অর্জন করেছে এবং এর ফলে সেখানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ইয়াহিয়া সারি অভিযোগ করেন, গত ২৪ ঘণ্টায় সানা ও ইয়েমেনের অন্যান্য প্রদেশে ৬০টি বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি জোট, যার ফলে মোট হামলার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪২০টিতে। হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে এই মুখপাত্র বলেন, ‘অবরোধের জবাব অবরোধ এবং হামলার জবাব পাল্টা হামলার মাধ্যমেই দেওয়া হবে।’
অন্যদিকে, হুথিদের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি সৌদি গণমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে একে ভিত্তিহীন ও বানোয়াট আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, যুদ্ধক্ষেত্রে নিজেদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি এবং জনদুর্ভোগের কারণে ইয়েমেনের সাধারণ মানুষের মধ্যে সৃষ্ট ক্রমবর্ধমান অসন্তোষ থেকে দৃষ্টি ঘোরাতেই হুথিরা এ ধরনের মিথ্যাচার করছে। একই সঙ্গে, ইয়েমেনে বিশৃঙ্খলা ও ধ্বংসযজ্ঞ ডেকে আনা বিদেশি শক্তির সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা আড়াল করার জন্যই এই অপকৌশল নেওয়া হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
আরও
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে হুথিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানাসহ কয়েকটি প্রদেশের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর, ২০১৫ সালের মার্চ থেকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের পক্ষে লড়াইয়ে নামে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। দীর্ঘস্থায়ী এই সংঘাত সম্প্রতি নতুন মাত্রা পেয়েছে। চলতি বছরের জুলাইয়ে হুথিদের নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে সৌদি জোটের বিমান ও নৌ অবরোধের জবাবে সৌদির বিরুদ্ধেও পাল্টা নৌ অবরোধের ঘোষণা দেয় ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীটি। এরপর থেকেই সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে একের পর এক হামলা চালিয়ে আসছে তারা।








