ইরানের মদতপুষ্ট ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সৌদি আরবের সেনাদের জীবন উৎসর্গের জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা গ্র্যান্ড মুফতি শেখ সালিহ বিন ফাওজান আল-ফাওজান। গতকাল বৃহস্পতিবার এক বিরল বিবৃতিতে তিনি এই আহ্বান জানান।
বৃহস্পতিবার গভীর রাতে প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে গ্র্যান্ড মুফতি বলেন, ‘এই মহান দেশকে রক্ষা করা এবং যারা এ ভূখণ্ডের এক ইঞ্চি জায়গাতেও অবৈধভাবে হস্তক্ষেপ করে, তাদের শাস্তি দেওয়া অন্যতম শ্রেষ্ঠ কর্তব্য ও অত্যন্ত পুণ্যের ইবাদত। এটি এমন এক ইবাদত, যা পালনের সময় আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশে জীবন ও আত্মা উৎসর্গ করা যেতে পারে।’ এ ছাড়া ইয়েমেনে সৌদি-সমর্থিত ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রেসিডেনশিয়াল কাউন্সিল সরকারের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা এই মুহূর্তে সবচেয়ে ‘জরুরি দায়িত্বগুলোর একটি’ বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
সেনাদের উদ্দেশে গ্র্যান্ড মুফতি বলেন, ‘আমরা আল্লাহর কাছে দোয়া করি, তিনি যেন আপনাদের সহায়তা করেন এবং আমাদের প্রিয় দেশ ও ইয়েমেনকে সব ধরনের ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা করেন। আমরা আরও দোয়া করি, তিনি যেন হুথি গোষ্ঠী এবং যারা তাদের সহযোগিতা করছে, তাদের সম্পূর্ণ পরাজয় নিশ্চিত করেন।’ সম্মুখসারিতে দায়িত্বরত সেনাদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, ‘নিজেদের দায়িত্ব পালনে সর্বদা প্রস্তুত থাকা, শাসক ও মাঠপর্যায়ের কমান্ডারদের নির্দেশ মেনে চলা এবং অত্যন্ত নিখুঁতভাবে আদেশ পালন করা আপনাদের আবশ্যিক কর্তব্য। আপনারা নবীর সাহাবিদের পদাঙ্ক অনুসরণ করছেন এবং মুসলমানদের পবিত্র স্থানগুলো রক্ষা করছেন।’
আরও
সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মুফতি বা প্রধান মুফতি দেশটির সর্বোচ্চ পদমর্যাদার এবং সবচেয়ে প্রভাবশালী ধর্মীয় ও আইনি কর্তৃপক্ষ। তিনি পদাধিকারবলে সৌদির জ্যেষ্ঠ আলেম পরিষদের চেয়ারম্যান এবং ইসলামিক রিসার্চ অ্যান্ড ইফতা স্থায়ী কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দেশের ধর্মীয় বিধিবিধান, শিক্ষাক্রম ও চিন্তাধারার ক্ষেত্রে সঠিক ইসলামি ব্যাখ্যা ও পথনির্দেশনা প্রদানের দায়িত্ব তাঁর ওপর ন্যস্ত। সৌদি আরবের বাদশাহ সরাসরি রাজকীয় ডিক্রির মাধ্যমে এই পদে নিয়োগ দেন এবং পদটি মন্ত্রীর মর্যাদাপ্রাপ্ত। বর্তমান গ্র্যান্ড মুফতি শেখ সালিহ বিন ফাওজান আল-ফাওজান গত বছরের (২০২৫ সালের) ২২ অক্টোবর এই পদে নিয়োগ পান। সাধারণত রাজনৈতিক বা সামরিক কোনো ইস্যুতে গ্র্যান্ড মুফতি প্রকাশ্যে এমন বক্তব্য দেন না। সেই হিসেবে তাঁর এই বিবৃতি বেশ বিরল ঘটনা।
রয়টার্সের খবর অনুযায়ী, সৌদি আরবের সঙ্গে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর দ্বন্দ্বের শুরু মূলত ২০১৪ সাল থেকে। ওই বছর ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হলে মাত্র এক বছরের মাথায় ২০১৫ সালে ইরানের মদতপুষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীটি রাজধানী সানা দখল করে নেয়। এরপর ইয়েমেনের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আবদ-রাব্বু মানসুর হাদি সৌদি আরবে পালিয়ে যান। তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকারকে ক্ষমতায় ফেরাতে ওই বছর থেকেই ইয়েমেনে সামরিক অভিযান শুরু করে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।
২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় সৌদি আরবের সঙ্গে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছেছিল হুথিরা। এরপর পরিস্থিতি প্রায় চার বছর ধরে কিছুটা স্থিতিশীল থাকলেও সম্প্রতি উত্তেজনা আবার চরম আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে গত ১৩ জুলাই ইয়েমেনের রাজধানী সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার পর দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে সংঘাতের তীব্র শঙ্কা তৈরি হয়েছে।








