সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনা ও সামরিক ঘাঁটিতে বড় ধরনের হামলার দাবি করেছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা। গোষ্ঠীটির দাবি, লোহিত সাগর তীরের বন্দরনগরী ইয়ানবুতে অবস্থিত আরামকো তেল কোম্পানির একটি স্থাপনা এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় খামিস মুশাইত এলাকার কিং খালিদ বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে তারা এই হামলা চালিয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি সপ্তাহে ইয়েমেনে হুতিদের বিভিন্ন অবস্থানে সৌদি জোটের ধারাবাহিক বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কড়া জবাব হিসেবেই এই জোড়া আক্রমণ চালানো হয়েছে।
হুতিদের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ইয়ানবুতে সৌদির রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি আরামকোর একটি কৌশলগত স্থাপনা লক্ষ্য করে একযোগে কয়েক ডজন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও বিস্ফোরকভর্তি ড্রোন নিক্ষেপ করা হয়েছে। গোষ্ঠীটির দাবি, প্রতিটি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে, যার ফলে ওই স্থাপনায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডসহ ব্যাপক বস্তুগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। একই সময়ে খামিস মুশাইত শহরের বিমানঘাঁটিতেও সুনির্দিষ্টভাবে কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয় এবং সেগুলো সফলভাবে আঘাত হেনেছে বলে দাবি করেছে বিদ্রোহীরা।
তবে হুতিদের এই জোড়া হামলার দাবির বিষয়ে রিয়াদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে আরামকোর তেল স্থাপনা কিংবা সামরিক ঘাঁটিতে প্রকৃতপক্ষে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে কি না, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এর আগেও বেশ কয়েকবার সৌদি আরবের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও তেল স্থাপনায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে হুতিরা। বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ তেল রপ্তানিকারক দেশের জ্বালানি স্থাপনায় এমন হামলা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবেই গভীর উদ্বেগ তৈরি করে।
আরও
বিশ্লেষকদের মতে, ২০১৪ সালে ইয়েমেনের রাজধানী সানা হুতিদের দখলে যাওয়ার পর থেকে শুরু হওয়া এই দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধ সম্প্রতি আবারও নতুন মাত্রা পেয়েছে। একদিকে ইয়েমেনের ভেতরে সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর সঙ্গে হুতিদের লড়াই তীব্র আকার ধারণ করেছে, অন্যদিকে লোহিত সাগরেও তাদের আক্রমণাত্মক তৎপরতা বেড়েছে। এমন অস্থিতিশীল ও উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই খোদ সৌদি আরবের মাটিতে হুতিদের এই জোড়া হামলার দাবি মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক ও আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে আরও জটিল সমীকরণের দিকে ঠেলে দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।








