সৌদি আরবে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বিদেশি শ্রমিকদের জন্য নতুন একটি সুবিধা চালু করেছে দেশটির মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়। নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ সাপেক্ষে এখন থেকে এসব শ্রমিক ব্যক্তিগত নিয়োগকর্তার অধীনে গৃহস্থালি কাজে স্থানান্তরিত হতে পারবেন। সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক এই নতুন সেবার মাধ্যমে যোগ্য বিদেশি কর্মীরা তাঁদের পেশা বদলের আবেদন করতে পারবেন।
বুধবার (৫ আগস্ট) গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, নতুন এই নিয়মের সুবিধা পেতে সংশ্লিষ্ট কর্মীর বৈধ ওয়ার্ক পারমিট থাকা বাধ্যতামূলক। তবে শিক্ষা, কারিগরি, স্বাস্থ্যসেবা বা বিশেষায়িত কোনো উচ্চপর্যায়ের পেশায় নিয়োজিত কর্মীরা এই সুবিধার আওতাভুক্ত হবেন না। পাশাপাশি সৌদি নাগরিকদের জন্য সংরক্ষিত কোনো পেশাতেও কর্মী স্থানান্তর করার সুযোগ নেই। বদলি হওয়া নতুন পেশাটি অবশ্যই গৃহস্থালি শ্রমের আওতাভুক্ত হতে হবে।
মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, আবেদনের সময় আগের নিয়োগকর্তার কাছ থেকে ইলেকট্রনিকভাবে সত্যায়িত ছাড়পত্র জমা দিতে হবে, যা সংশ্লিষ্ট চেম্বার অব কমার্স কর্তৃক অনুমোদিত হতে হবে। এ ছাড়া কর্মীর আঙুলের ছাপ ও স্বাক্ষরযুক্ত আবাসন অনুমতিপত্রের কপি এবং নতুন নিয়োগকর্তা ও পেশার বিস্তারিত তথ্য আবেদনে সংযুক্ত থাকতে হবে। প্রয়োজনীয় এসব কাগজপত্র পিডিএফ, জেপিজি, পিএনজিসহ নির্ধারিত কয়েকটি ফরম্যাটে অনলাইনে আপলোড করা যাবে। প্রতিটি নথির আকার সর্বোচ্চ ৩ মেগাবাইটের মধ্যে হতে হবে।
আরও
নতুন এই সেবাটি মূলত সৌদিতে গৃহস্থালি কর্মীদের জন্য বাধ্যতামূলক মজুরি সুরক্ষা কর্মসূচি বাস্তবায়নের একটি অংশ। এই কর্মসূচির আওতায় কর্মীদের বেতন অনুমোদিত চ্যানেলের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হয়, যা কর্মী ও নিয়োগকর্তা উভয়ের অধিকার সুরক্ষার পাশাপাশি শ্রমবাজারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে।
উল্লেখ্য, সৌদি আরবে নির্ধারিত সীমার বেশি গৃহস্থালি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রতিজনের জন্য বছরে ৯ হাজার ৬০০ রিয়াল ফি দিতে হয়। দেশটিতে সাধারণত সৌদি নাগরিকদের জন্য চারজন এবং প্রবাসীদের জন্য দুজন পর্যন্ত গৃহস্থালি কর্মীর সীমা নির্ধারিত রয়েছে। তবে মানবিক দিক বিবেচনায় প্রতিবন্ধী ও দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই নিয়মে কিছুটা ছাড়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।











