ইয়েমেনের রাজধানী সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার জেরে এবার সৌদি আরবের একটি বিমানবন্দরে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরানের মদতপুষ্ট হুতি বিদ্রোহীরা। সোমবার (১৩ জুলাই) ইয়েমেনের সৌদিপন্থী সরকার সানা বিমানবন্দরে হামলার দায় স্বীকার করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হুতিরা সৌদির দক্ষিণাঞ্চলীয় আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এই পাল্টা হামলা চালায়। এর মধ্য দিয়ে ২০২২ সালে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির চার বছর পর প্রথম তা ভঙ্গ করে সৌদি আরবে সরাসরি হামলা চালাল গোষ্ঠীটি।

জানা গেছে, ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শোক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তেহরানে গিয়েছিল হুতি বিদ্রোহীদের একটি প্রতিনিধিদল। গত সোমবার তাঁদের দেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু দলটি ফেরার পথেই সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ওই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঘটে, যার ফলে বিমানবন্দরের রানওয়ে পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়। বাধ্য হয়ে তাঁদের বহনকারী উড়োজাহাজটি যাত্রাপথ পরিবর্তন করে হোদেইদা বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এই ঘটনার পরপরই পরিস্থিতি চরম উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
আরও
সৌদি আরবে এই হামলার পর হুতি বিদ্রোহীদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি গতকাল এক ভিডিও বার্তায় জানান, সৌদির অপরাধমূলক আগ্রাসনের মোক্ষম জবাব দিতে দেশটির আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে। এই অভিযানে বেশ কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং বিস্ফোরকবাহী ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। অন্যদিকে, ইয়েমেনে অভিযানরত সৌদি জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি সংবাদমাধ্যম এএফপিকে এই হামলার তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, হুতি বিদ্রোহীরা কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল, তবে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ব্যবহারের মাধ্যমে সেগুলোকে মাঝ আকাশেই আটকে ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালে হুতি বিদ্রোহীরা রাজধানী সানা দখল করার পর ইয়েমেনের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মনসুর আবদ আল হাদি সৌদি আরবে পালিয়ে যান। এরপরই ইয়েমেনে সামরিক অভিযান শুরু করে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট বাহিনী। বর্তমানে ইয়েমেন কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত। দেশটির এক অংশ শাসন করছে সৌদিপন্থী সরকার এবং অন্য অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে হুতি বিদ্রোহীরা। তবে চলমান এই উত্তেজনার মধ্যেই ইয়েমেনের প্রেসিডেনশিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের প্রধান রাশেদ আল আলিমি জানিয়েছেন, তাঁরা নতুন করে সৌদি আরবের সঙ্গে কোনো উত্তেজনা বাড়াতে আগ্রহী নন।








