ভারতের কূটনৈতিক ক্ষেত্রে এক বড় পরিবর্তনের সাক্ষী হতে চলেছে নয়াদিল্লি। ১৯৪৮ সালে স্বাধীনতার পর থেকে চলে আসা দীর্ঘস্থায়ী প্রথার অবসান ঘটিয়ে সৌদি আরবে ভারতের পরবর্তী রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন ১৯৯৮ ব্যাচের আইএফএস কর্মকর্তা বিপুল। নরেন্দ্র মোদি সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে রিয়াদে শুধু মুসলিম কূটনীতিককে নিয়োগ করার যে ঐতিহ্য এত দিন ধরে চলে আসছিল, তাতে এবার ছেদ পড়ল।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়্যারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গতকাল মঙ্গলবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এই নতুন নিয়োগের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে। বিদায়ী রাষ্ট্রদূত সুহেল আজাজ খানের স্থলাভিষিক্ত হবেন বিপুল। বর্তমানে কাতারে ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে কর্মরত বিপুল উপসাগরীয় অঞ্চলের সঙ্গে দীর্ঘদিনের নিবিড় সম্পর্ক বজায় রেখে চলেছেন। তিনি এর আগে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসাগরীয় বিভাগের যুগ্ম সচিব এবং দুবাইয়ে কনসাল জেনারেল হিসেবেও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।
স্বাধীনতার পর থেকে এত দিন পর্যন্ত সৌদি আরবে ভারতের রাষ্ট্রদূত এবং জেদ্দায় কনসাল জেনারেল হিসেবে শুধুমাত্র মুসলিম কূটনীতিকদেরই নিয়োগ করার রেওয়াজ ছিল। এর প্রধান কারণ ছিল, প্রতিবছর হাজার হাজার ভারতীয় পুণ্যার্থী পবিত্র শহরগুলোতে হজ করতে যান এবং এই হজ প্রক্রিয়ার সুষ্ঠু পরিচালনার ক্ষেত্রে দূতাবাসের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হতো। তবে গত কয়েক দশকে এই পদের জন্য পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতাসম্পন্ন মুসলিম কূটনীতিক খুঁজে বের করা এবং তাঁদের রিয়াদে কাজ করার সদিচ্ছার অভাবে পরিস্থিতি কিছুটা জটিল হয়ে ওঠে। উপযুক্ত উত্তরসূরি খুঁজে না পাওয়ায় অনেক সময় সাবেক রাষ্ট্রদূতদের নির্ধারিত মেয়াদের চেয়ে বেশি সময় ধরে দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারকে অনেক সময় পেশাদার আইএফএস কর্মকর্তাদের গণ্ডির বাইরে গিয়েও প্রার্থী খুঁজতে হয়েছে। যার অন্যতম উদাহরণ হলেন মুম্বাই পুলিশের সাবেক কমিশনার আহমেদ জাভেদ, যিনি ২০১৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত সৌদি আরবে ভারতের রাষ্ট্রদূত ছিলেন।
আরও
নতুন এই রাষ্ট্রদূত এমন এক গুরুত্বপূর্ণ সময়ে রিয়াদের দায়িত্ব নিচ্ছেন, যখন সৌদি আরব এক পরিবর্তনশীল আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ইরানের সঙ্গে উত্তেজনার পাশাপাশি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রিয়াদ অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে এক অঘোষিত প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হয়েছে। তবে ভূরাজনৈতিক এসব সমীকরণের মাঝেও ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা, বাণিজ্য, বিপুল বিনিয়োগ এবং সর্বোপরি সৌদি আরবে বসবাসকারী বিপুলসংখ্যক প্রবাসী ভারতীয়র কল্যাণের ক্ষেত্রে রিয়াদ এখনো নয়াদিল্লির অন্যতম প্রধান সহযোগী হিসেবেই নিজের মজবুত অবস্থান ধরে রেখেছে।










