বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের কাছে ইসলামের সুমহান বার্তা পৌঁছে দিতে এ বছরও বাংলাসহ মোট ৫০টি ভাষায় পবিত্র হজের খুতবার অনুবাদ সম্প্রচার করা হবে। এ নিয়ে টানা সপ্তমবারের মতো পবিত্র হজের খুতবা বাংলা ভাষায় সম্প্রচারের বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সৌদি আরব। দেশটির পবিত্র মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববির তত্ত্বাবধানকারী জেনারেল প্রেসিডেন্সি বিভাগের অধীনে এই কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
আগামী ৯ জিলহজ পবিত্র আরাফাতের ময়দানে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে পবিত্র হজের মূল কার্যক্রম। এ বছর খুতবার বাংলা অনুবাদ কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছেন ড. মুহাম্মদ খলীলুর রহমান, ড. আ ফ ম ওয়াহিদুর রহমান, মুবিনুর রহমান ফারুক ও নাজমুস সাকিব। তাঁরা প্রত্যেকেই মক্কার উম্মুল কুরা ইউনিভার্সিটিতে বিভিন্ন সময়ে পড়াশোনা করেছেন। পবিত্র মসজিদুল হারামের খুতবা অনুবাদ প্রকল্পের বাংলা বিভাগের পরিচালক ড. মুহাম্মদ খলীলুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, অনুবাদ কার্যক্রমে তাঁদের দলের সব সদস্য অংশগ্রহণ করলেও উপস্থাপনায় থাকবেন দুজন। এর আগেও তিনি পাঁচবার হজের খুতবা অনুবাদ কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন এবং দুবার তা উপস্থাপন করেছেন।
কুমিল্লার শাসনগাছার সন্তান ড. মুহাম্মদ খলীলুর রহমান ১৯৯২ সালে ধামতী ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসা থেকে কামিল পরীক্ষায় সারা দেশে প্রথম স্থান অধিকার করেন। এরপর মক্কার উম্মুল কুরা ইউনিভার্সিটি থেকে অনার্স, মাস্টার্স ও পিএইচডি ডিগ্রি সম্পন্ন করে দীর্ঘ এক দশক সৌদি ইন্টারন্যাশনাল রেডিওতে অনুবাদক ও সংবাদ উপস্থাপক হিসেবে কাজ করেছেন। হজের খুতবা অনুবাদের এই দায়িত্বকে অত্যন্ত সম্মানের উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে বাংলাভাষী মুসলিমদের কাছে ইসলামের সুমহান বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়। মহান আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহে তাঁরা চারজন বাংলাদেশি এই গুরুদায়িত্ব পালন করছেন। একজন বাংলাদেশি হিসেবে হজের খুতবা নিজ ভাষায় শুনতে পাওয়াকে গৌরব ও সম্মানের বিষয় বলে মনে করেন তিনি।
আরও
পবিত্র আরাফাতের ময়দানে লাখ লাখ হাজির উদ্দেশে মসজিদে নামিরা থেকে খুতবা দেবেন মক্কার পবিত্র মসজিদুল হারামের ইমাম ও খতিব শায়খ ড. আলী বিন আবদুর রহমান আল-হুজাইফি। বিশ্বের ৫০টি ভাষায় এই খুতবা সম্প্রচারের সার্বিক তত্ত্বাবধান করছে মক্কা ও মদিনার পবিত্র দুই মসজিদের তত্ত্বাবধানকারী জেনারেল প্রেসিডেন্সি বিভাগের ভাষা ও অনুবাদ এজেন্সি। সৌদি বার্তা সংস্থা সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজের বিশেষ নির্দেশনায় প্রথম পর্যায়ে মাত্র পাঁচটি ভাষায় আরাফাতের খুতবা অনুবাদ প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। পরে ধাপে ধাপে ভাষার সংখ্যা বাড়তে থাকে এবং ২০২০ সালে প্রথমবারের মতো এতে বাংলা ভাষা যুক্ত হয়।
বর্তমানে এই অনুবাদ কার্যক্রম শুধু আরাফাতের খুতবার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। প্রতি সপ্তাহের জুমা, দুই ঈদ, বৃষ্টির নামাজ ও সূর্যগ্রহণের খুতবার পাশাপাশি বিভিন্ন আলোচনা এবং হজ ও ওমরাহ সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও অনুবাদ করা হচ্ছে। সর্বোচ্চসংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছাতে প্রতিবছরই নতুন নতুন ভাষা যুক্ত করা হচ্ছে। আরবিতে উপস্থাপিত মূল খুতবার পাশাপাশি ফ্রেঞ্চ, মালয়, উর্দু, ফারসি, ইংরেজি, স্প্যানিশ, ইতালীয় ও জার্মানসহ অন্যান্য ভাষায় খুতবার অনুবাদ শোনা যাবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইউটিউবে ‘আল-হারামাইন’ (Al-haramain-Sermons) চ্যানেল থেকে নির্দিষ্ট ভাষা নির্বাচন করে খুতবার অনুবাদ শোনার সুযোগ রয়েছে। এ ছাড়া মানারাতুল হারামাইন ওয়েবসাইট থেকেও বিগত বছরের খুতবা ও এর অনুবাদ পাওয়া যাবে।
আরও দেখুন









