সর্বশেষ

এজেন্সির প্রতারণায় সৌদিতে আটকা ২২ ওমরাহযাত্রী

1776832312 6bd8407bf6d5ceee8602e3fad4c3511fProbashircityWebPopupUpdate

ভুয়া রিটার্ন টিকিট দেওয়ায় ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও সৌদি আরবের জেদ্দায় আটকে পড়েছেন ২২ জন বাংলাদেশি ওমরাহযাত্রী। ট্রাভেল এজেন্সির চরম অবহেলা ও প্রতারণার কারণে দেশে ফিরতে না পেরে বর্তমানে অবৈধভাবে চরম উৎকণ্ঠায় দিন পার করছেন ভুক্তভোগীরা। সৌদি আরবের কড়াকড়ি নিয়মের মধ্যে আটকে পড়া এই যাত্রীদের নিরাপদে দেশে ফেরাতে ইতিমধ্যে জেদ্দায় অবস্থিত বাংলাদেশ হজ অফিস থেকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ে জরুরি চিঠি পাঠানো হয়েছে।

ধর্ম মন্ত্রণালয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ মার্চ ‘মাস্ক হজ গ্রুপ’ নামের একটি ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে ওমরাহ পালনে সৌদি আরবে যান ওই ২২ জন। এজেন্সির ব্যবস্থাপনা পরিচালক খলিলুর রহমান তাঁদের দেশে ফেরার জন্য ৫ এপ্রিলের ইন্ডিগো এয়ারলাইনসের টিকিট সরবরাহ করেন। কিন্তু ফেরার দিন তাঁরা জানতে পারেন যে টিকিটগুলো সম্পূর্ণ ভুয়া এবং অনলাইনে ফ্লাইটে তাঁদের কোনো আসন বরাদ্দ নেই। নিরুপায় হয়ে ভুক্তভোগীরা জেদ্দায় বাংলাদেশ হজ অফিসে যোগাযোগ করলে গত ১৯ এপ্রিল হজ কাউন্সিলর কামরুল ইসলাম তাঁদের দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা নিতে ধর্মসচিব বরাবর চিঠি দেন। ভুক্তভোগী ওমরাহযাত্রী আবু ইউসুফ জানান, ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় তাঁরা বিদেশে প্রতিনিয়ত গ্রেপ্তারের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশের (আটাব) সদস্য হলেও ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে ওমরাহ যাত্রী পাঠানোর কোনো বৈধ নিবন্ধন মাস্ক হজ গ্রুপের নেই। তা সত্ত্বেও ২০২৪ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটি অবৈধভাবে ওমরাহ প্যাকেজ বিক্রি করে আসছে। এমনকি গত মাসেও এই এজেন্সির মাধ্যমে যাওয়া ৭৪ জন ওমরাহযাত্রী একই ধরনের প্রতারণার শিকার হয়ে নিজস্ব খরচে দেশে ফিরেছেন। তবে এবারের ভুক্তভোগীদের মধ্যে সরকারি কর্মকর্তা থাকায় বেশ চাপে পড়েছেন এজেন্সির মালিক খলিলুর রহমান। তিনি দাবি করেছেন, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে আবেদন করেও তিনি লাইসেন্স পাননি। তবে বর্তমান এই সংকটের দায় টিকিট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘আল করীম এয়ার এভিয়েশন’ ও ‘গুড লাইফ ওভারসিজ’-এর ওপর চাপিয়ে গত ১৮ এপ্রিল পল্টন থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) জানিয়েছেন, অভিযুক্ত এজেন্সির সঙ্গে ইতিমধ্যে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং মালিকপক্ষ যাত্রীদের দেশে ফেরানোর বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছে। কীভাবে এমন প্রতারণার ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখে এজেন্সির বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উল্লেখ্য, সৌদি কর্তৃপক্ষের নিয়ম অনুযায়ী, নিশ্চিত রিটার্ন টিকিট ছাড়া কোনো ওমরাহযাত্রীকে বোর্ডিং পাস দেওয়া হয় না। নুসুক প্ল্যাটফর্মে হোটেল, পরিবহন ও স্বাস্থ্যবিমা সম্পন্ন করার পরই ভিসা মেলে। এসব কড়াকড়ি থাকা সত্ত্বেও ওমরাহযাত্রীদের এমন অভিনব প্রতারণার শিকার হওয়া নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

আরও দেখুন

whatsappচ্যানেল ফলো করুনProbashircityWebPopupUpdate
ProbashircityWebBannerUpdate