সৌদি আরবে নির্মাণাধীন একটি ভবন থেকে পড়ে মো. সোবহান খান নামের এক বাংলাদেশি প্রবাসী শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় রিয়াদের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর তিনি মারা যান। নিহত ওই প্রবাসীর বাড়ি মাদারীপুর সদর উপজেলার হরিকুমারিয়া এলাকায়। পরিবারের সচ্ছলতা ফেরানোর আশায় ধারদেনা করে বিদেশে গিয়ে লাশ হয়ে ফেরায় তাঁর পরিবারে এখন চলছে শোকের মাতম।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পেশায় ভ্যানচালক সোবহান খান সংসারের অভাব ঘোচাতে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা ঋণ করে গত ২০২৫ সালের ১৯ নভেম্বর সৌদি আরবে পাড়ি জমান। কিন্তু বিদেশে যাওয়ার পর প্রথম কয়েক মাস কোনো কাজ না পাওয়ায় তিনি দেশে পরিবারের কাছে কোনো টাকা পাঠাতে পারেননি। একদিকে বেকারত্ব, অন্যদিকে ঋণের কিস্তির চাপে দিশেহারা সোবহান প্রায় দুই মাস আগে সেখানে একটি নির্মাণাধীন ভবনে কাজ শুরু করেন।
কয়েক দিন আগে ওই বহুতল ভবনে কাজ করার সময় হঠাৎ ওপর থেকে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন তিনি। সহকর্মীরা তাঁকে উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে রিয়াদের একটি হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর খবর দেশের বাড়িতে পৌঁছালে পুরো পরিবারে নেমে আসে গভীর শোকের ছায়া। নিহতের স্ত্রী মরিয়ম বেগম আহাজারি করতে করতে বলেন, ‘ভালো কিছুর আশায় অনেক টাকা ঋণ করে স্বামীকে বিদেশে পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি কোনো টাকাই পাঠাতে পারেননি। এখন ছয় সন্তান নিয়ে আমি কীভাবে এই ঋণের বোঝা টানব আর সংসার চালাব, কিছুই বুঝতে পারছি না।’
আরও
চরম আর্থিক সংকটের কারণে সোবহান খানের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার মতো কোনো সামর্থ্য এই মুহূর্তে পরিবারটির নেই। তাই দ্রুত মরদেহ দেশে আনতে সরকারের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছেন তাঁরা। এ বিষয়ে মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও জেলা প্রশাসকের কাছে একটি লিখিত আবেদনও করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। পাশাপাশি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরেও এই আবেদনের অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।
মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াদিয়া শাবাব জানিয়েছেন, নিহতের মরদেহ দেশে আনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। স্বজনদের এখন একটাই আকুতি, দ্রুত যেন সোবহানের মরদেহটি দেশে এনে শেষবারের মতো দেখার ও দাফনের ব্যবস্থা করা হয়।










