সৌদি আরবের কিং আবদুল আজিজ পাবলিক লাইব্রেরি প্রায় এক হাজার বছরের পুরোনো ও অত্যন্ত দুর্লভ একটি পাণ্ডুলিপি প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে এনেছে। ‘গরিব আল-কোরআন’ শিরোনামের ঐতিহাসিক এই পাণ্ডুলিপিটি রচনা করেছেন প্রখ্যাত ভাষাবিদ আবু উবাইদাহ মামার ইবনে আল-মুসান্না। সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
কোরআন বিজ্ঞানের ওপর রচিত অমূল্য এই পাণ্ডুলিপিটি এর আগে কখনো প্রকাশিত হয়নি। ফলে এটি ইসলামি ইতিহাস ও গবেষণার ক্ষেত্রে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। লাইব্রেরি কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যমতে, হিজরি চতুর্থ শতাব্দীতে রচিত এই পাণ্ডুলিপিটিতে মোট ২৩টি পৃষ্ঠা রয়েছে। ১৭ বাই ২২ সেন্টিমিটার আকৃতির এই ঐতিহাসিক দলিলটি অত্যন্ত স্পষ্ট আন্দালুসীয় লিপিতে লেখা। তবে এর নান্দনিকতা সবচেয়ে বেশি ফুটে উঠেছে কোরআনের সুরাগুলোর নামকরণে, যা চমৎকার কুফিক লিপিতে নিপুণভাবে অলংকৃত করা হয়েছে।
কিং আবদুল আজিজ পাবলিক লাইব্রেরির সমৃদ্ধ সংগ্রহশালায় কোরআনের ব্যাখ্যা ও ভাষাতত্ত্বের ওপর এমন আরও বেশ কিছু শতাব্দীপ্রাচীন বিরল পাণ্ডুলিপি সংরক্ষিত রয়েছে। এর মধ্যে আবু ইশাক আল-জাজ্জাজ ও ইবনে কুতাইবাহ আল-দিনওয়ারির মতো বিখ্যাত পণ্ডিতদের গুরুত্বপূর্ণ কাজ যেমন রয়েছে, তেমনি ষষ্ঠ হিজরি শতাব্দীতে অনুলিপি করা বিখ্যাত ‘তাফসিরে তাবারি’র কিছু অংশও এখানে সযত্নে রাখা হয়েছে। বর্তমানে এই লাইব্রেরির আর্কাইভে কোরআনের ব্যাখ্যা সম্পর্কিত ১৮৫টিরও বেশি দুর্লভ পাণ্ডুলিপির পাশাপাশি কোরআনের তিলাওয়াত, ব্যাকরণ ও ব্যাখ্যার ওপর আরও শত শত প্রাচীন গ্রন্থ সংগৃহীত রয়েছে।
আরও
এমন বিরল পাণ্ডুলিপি প্রদর্শনের মূল লক্ষ্য সম্পর্কে কিং আবদুল আজিজ পাবলিক লাইব্রেরি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অমূল্য দলিল, ঐতিহাসিক আলোকচিত্র এবং মুদ্রার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে প্রাচীন ঐতিহ্যের সঙ্গে নিবিড়ভাবে পরিচয় করিয়ে দিতেই তারা এই উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে ঐতিহাসিক এই সম্পদগুলো দেশি-বিদেশি গবেষকদের জন্য আরও সহজলভ্য করে তোলাও তাদের অন্যতম উদ্দেশ্য, যাতে জ্ঞানচর্চা ও গবেষণার ক্ষেত্রে আগামী দিনে নতুন দিগন্তের উন্মোচন হয়।










