বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে চলতি বছর রেকর্ড সংখ্যক ভারতীয় নাগরিককে ফেরত পাঠানো হয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মোট ৮১টি দেশ থেকে অন্তত ২৪ হাজার ৬০০ ভারতীয়কে দেশে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এর মধ্যে সৌদি আরব থেকে সর্বোচ্চ ১১ হাজার ভারতীয়কে ফেরত পাঠানো হয়েছে, যা সামগ্রিক সংখ্যার প্রায় অর্ধেক।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র থেকেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভারতীয়কে দেশে ফেরত যেতে হয়েছে। বিভিন্ন শহর থেকে ৩ হাজার ৮০০ ভারতীয়কে পাঠানো হয়, যার মধ্যে ওয়াশিংটন ডিসি থেকে ৩ হাজার ৪১৪ জন এবং হিউস্টন থেকে ২৩৪ জন প্রত্যাবাসিত হন। গত পাঁচ বছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতীয় ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে এটি সর্বোচ্চ সংখ্যা। এদের বেশিরভাগই বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন বলে জানা গেছে।
মধ্যপ্রাচ্য ও অন্যান্য অঞ্চলে ফেরত পাঠানোর প্রধান কারণ হিসেবে ভিসার মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়া, বৈধ কাজের অনুমতি না থাকা, শ্রমনীতি লঙ্ঘন এবং অবৈধভাবে কাজ করার অভিযোগকে দায়ী করা হয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মিয়ানমার ও কম্বোডিয়ায় সাইবার জালিয়াতি সিন্ডিকেটে যুক্ত থাকার অভিযোগে বহু ভারতীয়কে গ্রেফতার করা হয় এবং পরবর্তী সময়ে তাদের নিজ দেশে পাঠানো হয়। মিয়ানমার থেকে ১,৫৯১ জন, মালয়েশিয়া থেকে ১,৪৮৫ জন, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ১,৪৬৯ জন, বাহরাইন থেকে ৭৬৪ জন, থাইল্যান্ড থেকে ৪৮১ জন এবং কম্বোডিয়া থেকে ৩০৫ জনকে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
আরও
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিশেষ করে সৌদি আরব ভারতীয় কর্মীদের বিষয়ে কঠোর যাচাই-বাছাই পরিচালনা করে। যাদের ভিসা বৈধ নয়, শ্রমনীতি ভঙ্গ করেছেন বা যথাযথ নথিপত্র নেই—তাদের দ্রুত প্রত্যাবাসিত করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রেও আইন লঙ্ঘন, অনুমতি ছাড়া কাজ এবং অভিবাসন নীতিমালা অমান্যের ঘটনায় ভারতীয়দের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রত্যাবাসন সংক্রান্ত প্রতিটি ঘটনার তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হয়েছে এবং ফেরত আসা নাগরিকদের জন্য দেশে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও আইনি পরামর্শ নিশ্চিত করা হচ্ছে। ২০২৫ সালে বিশ্বব্যাপী ভারতীয় নাগরিকদের ফেরত পাঠানোর এই পরিসংখ্যান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উল্লেখযোগ্য আলোচনার জন্ম দিয়েছে।












