সৌদি আরবের শ্রমবাজারে প্রবেশ করতে বাংলাদেশের শ্রমিকদের জন্য এখন শুধু পাসপোর্ট এবং মেডিকেল রিপোর্ট যথেষ্ট নয়। ‘তাকামুল’ নামে একটি পেশাগত দক্ষতা যাচাই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়াও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই পরীক্ষায় পাশ না হলে ভিসা বাতিল হওয়া বা চাকরি পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে গেছে। ফলে বাংলাদেশি শ্রমিকদের মধ্যে নতুন এক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে।
‘তাকামুল’ হলো সৌদি সরকারের স্কিল সার্টিফিকেশন কর্মসূচি, যার মাধ্যমে বিদেশি শ্রমিকদের কারিগরি ও পেশাগত দক্ষতা যাচাই করা হয়। এটি মূলত নির্মাণ, ইলেকট্রিক, প্লাম্বিং, মেকানিক, হোটেল সার্ভিসসহ বিভিন্ন খাতে প্রযোজ্য।
বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য ‘তাকামুল’-এ প্রস্তুতির পাঁচটি ধাপ রয়েছে। প্রথমে পেশা অনুযায়ী কোর্স নির্বাচন করতে হবে, যেমন—ইলেকট্রিশিয়ান, ওয়েল্ডার, প্লাম্বার বা হাউজকিপার। এরপর সরকারি ও বেসরকারি ট্রেনিং সেন্টারে ১ থেকে ৩ মাসের প্রশিক্ষণ নিতে হয়। তৃতীয় ধাপে মক টেস্ট ও অনুশীলনের মাধ্যমে পরীক্ষার ধরন বোঝা যায়। চতুর্থ ধাপে পরীক্ষার জন্য নির্ধারিত ফি প্রদান করে রেজিস্ট্রেশন করতে হয়। শেষ ধাপে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের পর উত্তীর্ণ হলে ‘তাকামুল’ সার্টিফিকেট ইস্যু হয়।
আরও
ট্রেনিং কো-অর্ডিনেটর মো. কামরুল ইসলাম বলেন, “তাকামুল শুধু একটি সার্টিফিকেট নয়, এটি শ্রমিকের মর্যাদা ও নিরাপত্তার প্রতীক। দক্ষ শ্রমিকরা ভালো বেতন ও সুবিধা পাচ্ছেন।”
সৌদি দূতাবাস এখন দক্ষতা ছাড়া কোনো বাংলাদেশি শ্রমিকের ভিসা বা স্ট্যাম্পিং দিচ্ছে না। বাংলাদেশের মোট জনশক্তির প্রায় ৭০ শতাংশ সৌদি আরবের দিকে যায়, যেখানে প্রায় ৯৫ শতাংশই অদক্ষ। তবে বাংলাদেশ সরকার সৌদির সঙ্গে আলোচনা করে আগামী এক বছর দক্ষ শ্রমিক প্রেরণের শর্ত শিথিল রাখার অনুমতি পেয়েছে।











