সৌদি আরবের রাজনীতিতে গত দুই দশক ধরে ক্ষমতার একাধিক পরিবর্তন ঘটেছে, যার প্রধান চরিত্র হয়ে উঠেছেন বর্তমান ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান। বাদশাহ আবদুল্লাহর মৃত্যুর পর সালমান বিন আব্দুল আজিজ রাজা হিসেবে অভিষিক্ত হন। প্রাথমিকভাবে তিনি তার পুত্র মুকরিন বিন আব্দুল আজিজকে ক্রাউন প্রিন্স ঘোষণা করেন, কিন্তু মাত্র তিন মাসের মধ্যে মুকরিনকে বরখাস্ত করে তার জায়গায় ৫৫ বছর বয়সী মোহাম্মদ বিন নায়েফকে নিয়োগ দেন। পাশাপাশি, ২৯ বছর বয়সী মোহাম্মদ বিন সালমানকে ডেপুটি ক্রাউন প্রিন্স ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
মোহাম্মদ বিন সালমান দ্রুতই রাজনীতিতে নিজের প্রভাব বিস্তার শুরু করেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সৌদি বিমান বাহিনী পরিচালনার মাধ্যমে তিনি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নেন, যা প্রাথমিকভাবে দেশীয় জনগণের প্রশংসা কুড়ালেও আন্তর্জাতিক মঞ্চে বিতর্ক তৈরি করে। এই সময়ে তিনি বাদশাহ এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের থেকে নিজেকে প্রভাবশালী অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত করতে গিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেন।
২০১৫ সালে মোহাম্মদ বিন নায়েফকে ক্রাউন প্রিন্সের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। রাজপরিবারের একটি বৈঠকের সময় নায়েফকে হেলিকপ্টারযোগে বাদশাহর কাছে নিয়ে আসা হয় এবং তার পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করানো হয়। পরে তাকে গৃহবন্দি করা হয় এবং সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা নতুন ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের পক্ষে সমর্থন নিশ্চিত করেন।
আরও
ক্রাউন প্রিন্স হিসেবে মোহাম্মদ বিন সালমান অর্থনীতি ও সামাজিক সংস্কারের ওপরও মনোযোগ দেন। ২০১৮ সালে নারীদের ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়া হয় এবং আবায়া পরিধানের বাধ্যবাধকতা শিথিল করা হয়। একই সময়ে, সরকারি তহবিল তছরুপের অভিযোগে প্রিন্স, ব্যবসায়ী ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা মিলিয়ে শতাধিককে গ্রেফতার করা হয়, যার মধ্যে প্রিন্স ও মন্ত্রীরাও ছিলেন। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে তিনি ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করার পাশাপাশি রাজনীতিতে বিরোধীদের চাপে রাখেন।
তবে মোহাম্মদ বিন সালমানের শাসনকাল বিতর্ক ও সমালোচনা থেকেও মুক্ত নয়। তার সময়ে সাংবাদিক জামাল খাসোগজির হত্যাকাণ্ড ঘটে, যা আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে। যদিও ক্রাউন প্রিন্স হত্যার দায় অস্বীকার করেন, তদন্ত ও প্রমাণ থেকে তার নির্দেশের সম্ভাবনা উঠে আসে। এছাড়া মানবাধিকার লঙ্ঘন, রাজনৈতিক বিরোধী ও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের কারণে সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক নীতি নিয়ে আলোচনা জোরদার হয়েছে।











