সৌদি আরবে মাদক চোরাচালানের দায়ে দোষী সাব্যস্ত দুই ইথিওপীয় নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, বৃহস্পতিবার এই সাজা কার্যকর করা হয়। চলতি বছরে সৌদি আরবে এ নিয়ে ১০০ জনেরও বেশি বিদেশির সর্বোচ্চ সাজা কার্যকর হলো।
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত দেশটিতে কমপক্ষে ১০১ জন বিদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। সর্বশেষ শাস্তিপ্রাপ্তরা হলেন ইথিওপিয়ার খলিল কাসিম মুহাম্মদ ওমর এবং মুরাদ ইয়াকুব আদম সিয়ো, যাদের বিরুদ্ধে হাশিশ পাচারের অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়।
সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ)-এর বরাতে জানা যায়, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সৌদিতে ১৮৯ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে, যার মধ্যে ৮৮ জনই সৌদি নাগরিক। ২০২৪ সালের শেষের দিকেই প্রথমবারের মতো বিদেশি নাগরিকদের মৃত্যুদণ্ডের সংখ্যা তিন অঙ্ক ছুঁয়েছে। বিশ্বের সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরকারী দেশগুলোর মধ্যে সৌদি আরব অন্যতম।
আরও
মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এ প্রবণতাকে ‘চরম অমানবিক’ বলে আখ্যা দিয়েছে। সংস্থার মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের উপ-পরিচালক ক্রিস্টিন বেকারলে বলেন, “বিদেশিদের এমন অপরাধে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হচ্ছে যা কখনোই এমন শাস্তির আওতায় পড়া উচিত নয়।” বিচার ব্যবস্থায় স্বচ্ছতার অভাব এবং প্রবাসীদের প্রতি বৈষম্যের অভিযোগও তুলেছে তারা।
লন্ডনভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন রিপ্রিভও এই ঘটনাগুলোর তীব্র সমালোচনা করেছে। তাদের মতে, ২০২৫ সালে যত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে, তার অর্ধেকের বেশি বিদেশি নাগরিকদের ওপর। রিপ্রিভের একজন কর্মকর্তা বলেন, “মোহাম্মদ বিন সালমান সৌদিকে উদার রাষ্ট্র হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন, অথচ মাদকের অপরাধে প্রতিদিন মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হচ্ছে—এটি নিপীড়নের এক নির্মম বাস্তবতা।”











