সৌদির তাঈফের একটি মাতৃসদনে নবজাতকের সঙ্গে অমানবিক আচরণে জড়িত নার্সদের বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তাঁদের পেশাগত লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। নবজাতকের মাথা নিয়ে খেলা করার সময় তিন নার্সের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
প্রথমে তিনজন নার্সকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে তদন্ত শুরু করা হয়। কয়েক ঘণ্টা পর সৌদি আরবের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, ওই নার্সদের চাকরি থেকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তাঁদের চিকিৎসাসেবা প্রদানের লাইসেন্সও বাতিল করা হয়েছে। ফলে তাঁরা ভবিষ্যতে আর কোনো স্বাস্থ্যসেবা খাতে নার্সিং পেশায় নিয়োজিত হতে পারবেন না।

আরও
জেদ্দার ন্যাশনাল গার্ড হাসপাতালে চিকিৎসা নৈতিকতা বিষয়ে শিক্ষক ড. মোহাম্মদ আল-গামেদি আরব নিউজকে বলেন, “শিশুরা যখন নির্যাতনের শিকার হয়, তখন মানুষের আবেগপ্রবণ প্রতিক্রিয়া খুব স্বাভাবিক। কারণ নবজাতকরা কথা বলতে পারে না, নিজের পক্ষে কিছু বলতে পারে না—এ কারণে বড়দের মধ্যেই তাদের হয়ে কথা বলার প্রবণতা তৈরি হয়।”
তিনি আরও বলেন, “যখন পেছন ফিরে ভাবি, তখন দেখা যায়, চিকিৎসা খাতে কর্মরত ব্যক্তি—হোক সে ডাক্তার বা নার্স—সবসময় জনগণের কড়া পর্যবেক্ষণের মুখে থাকেন। জনগণ তাঁদের কাছ থেকে পেশাগত দায়িত্ববোধ ও মর্যাদা বজায় রাখার প্রত্যাশা করে। সাধারণের চোখে ডাক্তার ও নার্সরাই হলেন নৈতিকতার প্রতীক—তাই তাঁদের কোনো ছোটখাটো ভুলও বড় করে দেখা হয়।”
তবে তিনি এটিও স্পষ্ট করেন, “এর মানে এই নয় যে, আমরা নিজেরা বিচারক হয়ে যাবো এবং অপরাধীদের শাস্তি দিয়ে দেবো। এসব বিষয় যথাযথ কর্তৃপক্ষের ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিত, যাতে তারা ন্যায্যভাবে বিষয়টি মূল্যায়ন করতে পারে এবং শিশুটির ও তার পরিবারের ওপর আরও কোনো মানসিক চাপ না পড়ে।”










