আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিয়ে প্রতিবেশী ওমানের সঙ্গে একটি চুক্তি সই করেছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি গতকাল শনিবার এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা যায়।
ইরানি সংবাদমাধ্যম দেফা প্রেসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইসমাইল বাঘায়ি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রবল বাধা সত্ত্বেও গত তিন সপ্তাহ ধরে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের পথ নিয়ে ওমানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়েছে ইরান। এই আলোচনার ফলশ্রুতিতেই জাহাজ চলাচলের পথের মানচিত্র নিয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে প্রণীত এই চুক্তির আলোচনায় দেশটির প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা ও পরিবেশবিষয়ক কর্তৃপক্ষও সরাসরি অংশ নেয়।
চুক্তিটির খবর এমন এক সময়ে সামনে এল, যার ঠিক ২৪ ঘণ্টা আগেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। গত শুক্রবার নিউইয়র্কে এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধে ইরানকে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করার পর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটিকে তিনি মার্কিন ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করবেন। তবে এই চুক্তির বিষয়ে ইরান বা ওমান কোনো পক্ষ থেকেই এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে বাঘায়ি জানান, চুক্তির কয়েকটি বিষয় নিয়ে এখনো আলোচনা চলছে, যা শিগগিরই মীমাংসা হওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে।
আরও
ওমান উপসাগর ও পারস্য উপসাগরকে সংযুক্তকারী ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ হরমুজ প্রণালির এক পাশে ইরান এবং অপর পাশে ওমান অবস্থিত। আন্তর্জাতিক বাজারের জ্বালানি তেলের অন্তত ২০ শতাংশই এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। উল্লেখ্য, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে চরম উত্তেজনার জেরে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দেশটিতে সামরিক অভিযান শুরু করে মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনী, যার মধ্য দিয়ে মূলত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের সূত্রপাত হয়। যুদ্ধের প্রথম দিনেই হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিদেশি জাহাজ চলাচলে অবরোধ আরোপ করে ইরান। এর পাল্টা জবাব হিসেবে এপ্রিলে ইরানের বন্দরগুলোতে কঠোর অবরোধ দেয় যুক্তরাষ্ট্রও।
প্রায় তিন মাস পর গত ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ইসলামাবাদ শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও, ৫ জুলাই আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথটিতে বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে আইআরজিসির হামলার পর সংঘাত পুনরায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এরপর ১৩ জুলাই চুক্তি থেকে বেরিয়ে গিয়ে হরমুজ প্রণালিতে ফের অবরোধ আরোপ করে তেহরান, যার জবাবে ওয়াশিংটনও ইরানের বন্দরগুলোতে পাল্টা অবরোধ দেয়। এই অচলাবস্থা এখনো বহাল রয়েছে।
সাক্ষাৎকারে ইসমাইল বাঘায়ি জোর দিয়ে বলেন, ওমানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত এই চুক্তিটি মূলত দুই উপকূলীয় রাষ্ট্রের মধ্যে একটি স্বাধীন চুক্তি, যার প্রধান লক্ষ্য উভয় দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি এই প্রণালি দিয়ে জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা। তবে তিনি স্বীকার করেন যে, চুক্তিটি পুনরায় কার্যকর হওয়া এবং হরমুজে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার বিষয়টি অনেকাংশেই নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অবৈধ কার্যক্রম’, সামরিক হুমকি ও নৌ অবরোধ প্রত্যাহার এবং গত দুই মাসে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ওপর।











