দেশ, সীমানা আর ভাষার সব ব্যবধান ঘুচিয়ে কেবল প্রেমের টানে শ্রীলঙ্কা থেকে ফেনীতে ছুটে এসেছেন এক তরুণী। শুধু আসাই নয়, ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে স্থানীয় এক যুবকের সঙ্গে বিবাহবন্ধনেও আবদ্ধ হয়েছেন তিনি। ব্যতিক্রমী ও আলোচিত এই ঘটনাটি ঘটেছে ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের আজিজ ফাজিলপুর গ্রামে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্র জানায়, দাগনভূঞার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোহাম্মদ ইয়াছিনের ছেলে এজাজ আহমেদ শিহাব এবং শ্রীলঙ্কান নাগরিক ইশারা মাট্টি ওমানের একটি টেক্সটাইল কোম্পানিতে একসঙ্গে কাজ করতেন। সহকর্মী হিসেবে পরিচয়ের সূত্র ধরে তাঁদের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে, যা একপর্যায়ে গভীর প্রেমে রূপ নেয়। দীর্ঘ তিন বছরের এই ভালোবাসার সম্পর্ককে পূর্ণতা দিতে তাঁরা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু ওমানে বিয়ের ক্ষেত্রে আইনি জটিলতা থাকায় তাঁরা নিজ নিজ দেশে ফিরে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত ৩১ জানুয়ারি দেশে ফেরেন শিহাব। ভালোবাসার টানে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে পা রাখেন ইশারা। বিমানবন্দর থেকে তিনি সরাসরি দাগনভূঞায় শিহাবের বাড়িতে চলে আসেন। ভিনদেশি এই কন্যাকে বরণ করে নিতে শিহাবের পরিবার কোনো কার্পণ্য করেনি। বাড়িতে আসার পর ইশারা মাট্টি স্বেচ্ছায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং তাঁর নতুন নাম রাখা হয় জান্নাতুল ফেরদৌস জান্নাত (২৭)। এরপর উভয় পরিবারের সম্মতিতে এবং ধর্মীয় রীতি মেনে ৫ লাখ টাকা দেনমোহরে তাঁদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।
আরও
ভিন্ন সংস্কৃতি ও দেশের মানুষ হওয়া সত্ত্বেও কেবল ভালোবাসার টানে জান্নাতের এই সাহসী পদক্ষেপ স্থানীয় মানুষের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলেছে। বর্তমানে জান্নাতুল ফেরদৌস জান্নাত তাঁর শ্বশুরবাড়িতে বেশ আনন্দেই সময় কাটাচ্ছেন। ভিনদেশি পুত্রবধূকে পেয়ে খুশি শিহাবের পরিবার ও আত্মীয়স্বজনও। পাত্র এজাজ আহমদ শিহাব জানিয়েছেন, ওমানের আইনে বিয়ে সম্ভব না হওয়ায় তাঁরা দেশে এসে বিয়ে করেছেন এবং দুই পরিবারই পুরো বিষয়টি সম্পর্কে অবগত রয়েছে।










