চলতি বছর রমজান মাস শুরুর ক্ষেত্রে চাঁদ দেখার জন্য অপেক্ষা করবে না ওমান। এবারে চাঁদ দেখার পরিবর্তে জ্যোতির্বিজ্ঞানিক গণনার ভিত্তিতেই বৃহস্পতিবার পবিত্র রমজানের প্রথম দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। ওমানের ধর্ম ও ওয়াকফ মন্ত্রণালয়ের জ্যোতির্বিজ্ঞান বিভাগের পরিচালক ইউসুফ বিন হামাদ আল রাহবি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আল রাহবি জানান, চান্দ্র মাস নির্ধারণের ক্ষেত্রে জ্যোতির্বিজ্ঞান একটি বৈজ্ঞানিক ও নির্ভরযোগ্য কাঠামো প্রদান করে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ওমানের এই নীতিতে নতুন কোনো পরিবর্তন আসেনি। যখন বৈজ্ঞানিক বা ভৌগোলিক কারণে চাঁদ দেখা অসম্ভব হয়ে পড়ে—যেমনটি বর্তমান পরিস্থিতিতে ঘটেছে—তখন ওমান জ্যোতির্বিজ্ঞানের ওপর নির্ভর করে। তবে যখন চাঁদ দেখার সম্ভাবনা থাকে, তখন নিয়ম অনুযায়ী ২৯ তারিখে কমিটি বৈঠকে বসে এবং চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ঘোষণা দেওয়া হয়। কেবল যখন চাঁদ দেখা একেবারেই অসম্ভব, তখনই আগাম ঘোষণা দেওয়া হয়।
তিনি উল্লেখ করেন, গত প্রায় ১৩ বছর ধরে ওমান এই পদ্ধতি অনুসরণ করে আসছে। সেময়েও শাবান মাসের ২৯ তারিখে চাঁদ দেখা অসম্ভব ছিল বলে প্রায় দুই সপ্তাহ আগেই ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে আলোচনা বাড়লেও ওমানের পদ্ধতিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি। তাঁর মতে, জ্যোতির্বিজ্ঞান এবং জ্যোতিষশাস্ত্র এক নয়। অতীতের মানুষ জ্যোতিষশাস্ত্রের ওপর নির্ভর করলেও বর্তমান যুগে গণিত, জ্যামিতি এবং বৃত্তাকার গতির ওপর ভিত্তি করে অত্যন্ত নিখুঁত ও বাস্তবসম্মত মান পাওয়া সম্ভব।
আরও
মূলত ওমান সরকার আগে থেকেই পরিকল্পনা করে রাখে যে চাঁদ দেখার সম্ভাবনা আছে কি না। যদি গণনা অনুযায়ী দেখা অসম্ভব হয়, তবে মাস ৩০ দিনে পূর্ণ করা হয় এবং পর্যবেক্ষণের জন্য দল পাঠানো হয় না। আর যদি সম্ভাবনা থাকে, তবে নির্ধারিত পয়েন্টগুলোতে টেলিস্কোপ ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিসহ পর্যবেক্ষণ দল পাঠানো হয় এবং ২৯ তারিখে কমিটির বৈঠকের মাধ্যমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।










