ওমানের বেসরকারি খাতে স্থানীয় নাগরিকদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও শ্রমবাজার নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে দেশটির শ্রম মন্ত্রণালয়। সম্প্রতি জারি করা ৬০২/২০২৫ নম্বর প্রশাসনিক আদেশের মাধ্যমে মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, নির্ধারিত ‘ওমানাইজেশন’ লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ কোম্পানিগুলোকে এখন থেকে দ্বিগুণ কর্মসংস্থান পারমিট বা লাইসেন্স ফি প্রদান করতে হবে। চলতি বছরের জানুয়ারির শেষভাগ থেকে কার্যকর হওয়া এই নতুন নিয়মের মূল লক্ষ্য হলো বিদেশি শ্রমিকের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ওমানি জনশক্তিকে অগ্রাধিকার দেওয়া।
নতুন এই কাঠামোর আওতায় দেশটির সকল কোম্পানিকে তাদের দক্ষতা অনুযায়ী ‘সবুজ’, ‘হলুদ’ এবং ‘লাল’—এই তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যেসব প্রতিষ্ঠান সফলভাবে ওমানি নাগরিকদের নিয়োগের কোটা পূরণ করতে পারবে, তারা ‘সবুজ’ শ্রেণিভুক্ত হওয়ার পাশাপাশি লাইসেন্স ফিতে ৩০ শতাংশ বিশেষ ছাড় উপভোগ করবে। তবে যারা এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে পিছিয়ে থাকবে, অর্থাৎ যারা ‘হলুদ’ বা ‘লাল’ শ্রেণিতে পড়বে, তাদের স্বাভাবিক ফি-র চেয়ে দ্বিগুণ অর্থ পরিশোধ করতে হবে। পুরো প্রক্রিয়াটি একটি ইলেকট্রনিক প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালিত হবে যাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যায়।
শ্রম মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আম্মার বিন সালেম আল সাদি এই উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরে জানান যে, এটি মূলত বেসরকারি খাতকে ওমানি দক্ষ কর্মীদের জন্য আরও আকর্ষণীয় করে তোলার একটি প্রচেষ্টা। সরকারের এই পরিকল্পনাটি কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা এবং আকর্ষণীয় প্রণোদনার একটি সংমিশ্রণ। যদিও সাধারণ বড় কোম্পানিগুলোর জন্য নিয়মটি বেশ কড়া, তবে ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতের ‘রিয়াদা’ কার্ডধারী প্রতিষ্ঠানগুলো নির্দিষ্ট সংখ্যক লাইসেন্সের ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা বা ছাড় অব্যাহতভাবে পাবে। এর ফলে ওমানি নাগরিকদের নিয়োগের পাশাপাশি তাদের যথাযথ প্রশিক্ষণের পরিবেশ তৈরি হবে বলে আশা করছে সরকার।











