ওমান সরকার প্রবাসী কর্মীদের ওয়ার্ক পারমিট বা কাজের অনুমতি সংক্রান্ত নীতিমালায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। নতুন এই নিয়মে ‘ওমানাইজেশন’ বা স্থানীয়করণ লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ কোম্পানিগুলোর জন্য ওয়ার্ক পারমিট ফি দ্বিগুণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, যেসব প্রতিষ্ঠান সরকারি নিয়ম মেনে স্থানীয় নাগরিকদের নিয়োগে সফল হয়েছে, তাদের জন্য ফি-তে ৩০ শতাংশ ছাড়ের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। দেশটির শ্রম মন্ত্রণালয় শ্রমবাজারের ভারসাম্য রক্ষা ও জাতীয় কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই নতুন ফি কাঠামো চালু করেছে।
ওমানের শ্রম মন্ত্রণালয়ের শ্রম বিভাগের মহাপরিচালক আম্মার বিন সালেম আল সাদি জানান, নতুন কাঠামো অনুযায়ী কোম্পানিগুলোকে তাদের ওমানাইজেশন অনুপাত এবং প্রকৃত শ্রম চাহিদার ওপর ভিত্তি করে তিনটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে। ‘সবুজ’ তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো ওয়ার্ক পারমিট ফি-তে ৩০ শতাংশ ছাড় পাবে। তবে ‘হলুদ’ বা ‘লাল’ তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোকে ওমানাইজেশন মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থতার কারণে দ্বিগুণ ফি গুনতে হবে। এই পদ্ধতিকে তিনি প্রণোদনা ও শৃঙ্খলার একটি সমন্বিত ব্যবস্থা হিসেবে অভিহিত করেছেন।
এই শ্রেণিবিন্যাস বা ক্লাসিফিকেশন ব্যক্তিগত পর্যায়ে নয়, বরং কোম্পানি পর্যায়ে কার্যকর হবে। পুরো প্রক্রিয়াটি ইলেকট্রনিক লাইসেন্সিং প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে, ফলে কোম্পানিগুলো প্রয়োজনীয় ওমানাইজেশন স্তর অর্জন করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফি ছাড়ের সুবিধা পাবে। এছাড়া, ‘রিয়াদা’ কার্ডধারী ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগগুলোর (এসএমই) জন্য বিশেষ বিবেচনার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। দ্বিগুণ ফি আরোপের আগে তাদের কিছু বিশেষ সুবিধা দেওয়া হবে, যাতে তারা সহজেই সবুজ ক্যাটাগরিতে উন্নীত হয়ে ছাড়ের সুবিধা উপভোগ করতে পারে।
আরও
শ্রম মন্ত্রণালয়ের এই সংস্কারের মূল উদ্দেশ্য শুধু ফি সমন্বয় করা নয়, বরং একটি টেকসই শ্রমবাজার কাঠামো গড়ে তোলা। এর মাধ্যমে স্বল্প-দক্ষ প্রবাসী শ্রমিকের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বেসরকারি খাতে ওমানি নাগরিকদের অংশগ্রহণ শক্তিশালী করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কর্মকর্তাদের মতে, লাইসেন্সপ্রাপ্ত ও প্রকৃত শ্রমিকের সংখ্যার ব্যবধান কমানো এবং বাজারের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোই এই উদ্যোগের লক্ষ্য। ব্যবসায়ীদের সরকারি প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান কর্মসূচির সহায়তা নিয়ে দ্রুত কমপ্লায়েন্স বা নিয়ম মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।












