ওমানে কর্মরত প্রবাসী শ্রমিকদের কর্মকালীন নিরাপত্তা ও আইনি সুরক্ষা জোরদারে নতুন প্রবিধান জারি করেছে সামাজিক সুরক্ষা তহবিল (SPF)। নতুন নিয়মে কর্মস্থলে দুর্ঘটনা বা পেশাগত অসুস্থতার তথ্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে না জানালে নিয়োগকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর জরিমানার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
প্রবিধানে ‘কর্মকালীন আঘাত’ বা কাজসংক্রান্ত ক্ষতির পরিধি আরও বিস্তৃত করা হয়েছে। এতে সরাসরি শারীরিক আঘাত ছাড়াও অতিরিক্ত কাজের চাপজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি—যেমন হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক বা দীর্ঘমেয়াদি ক্লান্তিজনিত অসুস্থতাকেও কর্মসম্পর্কিত আঘাত হিসেবে গণ্য করার কথা বলা হয়েছে। ফলে এ ধরনের ঘটনায় ক্ষতিপূরণ ও চিকিৎসা সহায়তা পাওয়ার সুযোগ বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
একই সঙ্গে বাসা থেকে কর্মস্থলে যাতায়াতের পথে দুর্ঘটনা ঘটলেও বীমা কাভারেজের আওতায় ক্ষতিপূরণ পাওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। তবে এ সুবিধা পেতে যাতায়াতের পথ ‘সাধারণ ও সরাসরি’ হতে হবে—এমন শর্তও প্রবিধানে উল্লেখ রয়েছে।
আরও
নিয়োগকর্তাদের জন্য রিপোর্টিংয়ের সময়সীমা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সর্বোচ্চ ৫ দিনের মধ্যে এবং পেশাগত রোগ শনাক্ত বা সন্দেহ হলে ১৪ দিনের মধ্যে SPF-কে অবহিত করতে হবে। নির্ধারিত সময়ে তথ্য না দিলে প্রতি ৩০ দিনের জন্য ১০ ওমানি রিয়াল জরিমানা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীর চিকিৎসা ব্যয় মালিককে বহনের বিধানও রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
ওমান সরকারের এই পদক্ষেপের ফলে কর্মক্ষেত্রে প্রবাসী শ্রমিকদের আইনি সুরক্ষা, চিকিৎসা সহায়তা এবং ক্ষতিপূরণ প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি নিয়োগকর্তাদের জন্যও আইন মেনে রিপোর্টিং ও কর্মপরিবেশ নিরাপদ রাখার দায়বদ্ধতা আরও স্পষ্ট হলো।











