ইথিওপিয়ার ‘হায়লি গুবি’ আগ্নেয়গিরির আকস্মিক অগ্ন্যুৎপাত মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় ব্যাপক অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। অগ্ন্যুৎপাতের পর নির্গত বিশাল ছাইয়ের মেঘ লোহিত সাগর অতিক্রম করে আরব উপদ্বীপ ও ভারতের আকাশে প্রবেশ করায় একাধিক দেশের ওপর জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ছাইয়ের কারণে আকাশপথে দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, ওমান, কুয়েত ও কাতারগামী বহু আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল বা রুট পরিবর্তনে বাধ্য হয়েছে বিভিন্ন এয়ারলাইন।

ফ্লাইট পরিচালনাকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে এয়ার অ্যারাবিয়া, আকাসা এয়ার, এয়ার ইন্ডিয়া ও ইন্ডিগো ইতোমধ্যে দুবাই, জেদ্দা, দোহা, দাম্মাম ও কুয়েতমুখী একাধিক ফ্লাইট বাতিল করেছে। যাত্রীদের ক্ষতি কমাতে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনগুলো টিকিটের পূর্ণ অর্থ ফেরত, বিনামূল্যে তারিখ পরিবর্তন বা বিকল্প ফ্লাইটের সুবিধা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। পরিস্থিতি কখন স্বাভাবিক হবে—তা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব হচ্ছে না।
আরও
ওমান পরিবেশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগ্নেয়গিরির ছাই শনাক্তের পর দেশটিতে জরুরি পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। তাদের বায়ুমণ্ডলের প্রায় ৩৫ হাজার ফুট উচ্চতায় ছাইয়ের অস্তিত্ব পাওয়া গেলেও এখনো জনস্বাস্থ্যের ওপর গুরুতর কোনো ঝুঁকি সৃষ্টি হয়নি। সৌদি আরবের আবহাওয়া দপ্তর জানায়, তারা পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং বর্তমানে তাদের আকাশসীমায় সরাসরি হুমকি নেই।


এদিকে সর্বশেষ স্যাটেলাইট তথ্য অনুযায়ী, আগ্নেয়গিরির ছাইয়ের ঘন মেঘ উত্তর ভারত থেকে সরে চীন ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকার দিকে অগ্রসর হচ্ছে। তবে আকাশপথের চলাচলে প্রভাব অব্যাহত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো।
এ অবস্থায় যাত্রীদের উদ্দেশে সংশ্লিষ্ট বেসামরিক বিমান কর্তৃপক্ষ ও এয়ারলাইনগুলো পরামর্শ দিয়েছে—বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে নির্ধারিত ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা যাচাই করে নিতে, যাতে অপ্রত্যাশিত ভোগান্তি এড়ানো যায়।










