ওমানের বিভিন্ন অঞ্চলে মাদক, শ্রম আইন লঙ্ঘন, অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং পশু চুরিসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে বিশেষ অভিযান চালাচ্ছে রয়্যাল ওমান পুলিশ (ROP)। সাম্প্রতিক এই অভিযানগুলোতে বাংলাদেশিসহ বহু এশীয় প্রবাসী ও কয়েকজন স্থানীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাউশার উইলায়েতে পরিচালিত এক অভিযানে চারজন বিদেশিকে মাদক পাচার ও সংরক্ষণের অভিযোগে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে হেরোইন, মারিজুয়ানা, ক্রিস্টাল মেথ ও বিভিন্ন মানসিক প্রভাবক ট্যাবলেট উদ্ধার করার কথা জানিয়েছে মাদকবিরোধী বিভাগ, যারা জানিয়েছে—অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া দ্রুত এগোচ্ছে।

এছাড়া মাস্কাট গভর্নরেটের বাউশারে শ্রম আইন ও বৈধ বসবাসের নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগে ২২ জন এশীয় নারীকে গ্রেপ্তার করেছে তদন্ত ও অপরাধ দমন বিভাগ। বিশেষ টাস্কফোর্সের সহায়তায় পরিচালিত অভিযানে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, আটক নারীরা নিবন্ধিত পেশার বাইরে অন্যান্য কাজে যুক্ত ছিলেন। শ্রম আইন কঠোরভাবে প্রয়োগের অংশ হিসেবে তাদের বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন।
আরও


উত্তর আল-বাতিনাহর শিনাস উইলায়েতে সমুদ্রপথে অবৈধ অনুপ্রবেশের সময় সাতজন এশীয় নাগরিককে আটক করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে এক ওমানি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যিনি নিজের ব্যক্তিগত গাড়িতে অনুপ্রবেশকারীদের অভ্যন্তরে পরিবহনের চেষ্টা করছিলেন। পুলিশ জানায়, অনুপ্রবেশ ও সহযোগিতার অভিযোগে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সোহার উইলায়েতে বিভিন্ন খামার থেকে ৩০টিরও বেশি গবাদিপশু চুরির ঘটনায় দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে ROP। তদন্তে তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। পুলিশ জানিয়েছে, দেশের নিরাপত্তা, শ্রম বাজারের স্থিতিশীলতা এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে শূন্য সহনশীলতার নীতি অব্যাহত থাকবে এবং প্রয়োজন হলে আরও কঠোর অভিযান পরিচালনা করা হবে।
বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য বিশেষ সতর্কবার্তা
ওমান পুলিশ সাম্প্রতিক সময়ে যেসব অপরাধে অভিযান জোরদার করেছে—
মাদক বহন বা লেনদেন
শ্রম আইন লঙ্ঘন
“ফ্রি ভিসা” অপব্যবহার
অনুমতি ছাড়া চাকরি পরিবর্তন
অবৈধ অনুপ্রবেশে সহায়তা
গবাদিপশু ও সম্পদ চুরি
এসব অপরাধে অভিযুক্ত হলে গ্রেপ্তার, জরিমানা, তাৎক্ষণিক ডিপোর্টেশন এবং ওমানে আজীবন প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা—এমন কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।
বাংলাদেশি প্রবাসীদের অনুরোধ—নিজ নিজ ভিসার শর্ত মেনে চলুন, বৈধ নিয়োগকর্তার অধীনে কাজ করুন এবং কোনোভাবেই অবৈধ কাজে জড়াবেন না।
অল্প লাভের আশায় বেআইনি পথে হাঁটলে প্রবাসজীবন পুরোপুরি ধ্বংস হতে পারে—যা কখনোই পূরণীয় নয়।










